কৃষক শাহ আলম ও তার বন্ধুরা জানান, ধানচাষের পাশাপাশি এই বছর ৭০ হাজার টাকায় দুই একর জমি লিজ নিয়ে আগাম জাতের খিরা চাষ করি। আল্লাহর রহমতে বাম্পার ফলন হয়েছে। দুই একর জমিতে মোট দুই লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এরমধ্যে ছয় লাখ টাকার খিরা বিক্রি করেছি। আরো এক লাখ টাকার খিরা বিক্রি করতে পারব। জমি থেকেই পাইকারি ৩০-৩৪ টাকা কেজিতে খিরা বিক্রি করতে পেরেছি, যার ফলে আশা করি খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৪ লাখ টাকার উপরে লাভ হবে। এছাড়াও কিছুদিন পর এই জমিতে বোরো ধান রোপণ করব। তারা আরো জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে আগামী বছর এরচেয়েও বেশি জমিতে আগাম জাতের খিরা চাষ করবেন।
রায়টুটি ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, এই বছর খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। চার বন্ধুর খিরা চাষের সফলতা দেখে আমিও আগামী বছর ধানের পাশাপাশি খিরা চাষ করব।
.png)
খিরার আড়তদার কামাল হোসেন বলেন, এই বছর হাওরে আগাম জাতের খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা চাষিদের কাছ থেকে খিরা কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছি। দাম নিয়ে চাষিদের কোনো অভিযোগ নেই।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী খান এহসানুল হক বলেন, ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের হাওরে আগাম সবজির মধ্যে ৭ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের খিরা চাষ হয়েছে। খিরা চাষিদের সার্বিকভাবে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খিরার বাম্পার ফলনে চাষিরা খুশি। আগামী বছর এরচেয়েও উন্নত জাতের খিরার বীজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য কৃষি অফিস চেষ্টা করবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের খিরা চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ উজ্জ্বল সাহা জানান, খিরা চাষে কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় হাওরে ধানচাষের পাশাপাশি কৃষকেরা খিরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কয়েক বছর ধরেই ইটনা উপজেলার বিভিন্ন হাওরের উঁচু জমিতে ধানের পাশাপাশি খিরা চাষ করছে তারা। আগাম জাতের খিরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিরা অনেক খুশি। আগামী বছর খিরার চাষ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।