পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
নিহত শাহজাহান উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের আল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে জড়িতরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
.png)
নিহতের মা রিনা বেগম জানান, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে শাহজাহানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পাওনা টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কোরবানপুর এলাকায় একটি বালুর মাঠে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাকিব, বিজয় ও ইমরান, আনোয়ার ও নূর হোসেনসহ ৮-১০ জনের একটি দল তাকে ছুরিকাঘাত করে হাতের ও পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আহত শাহজাহানকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের বাবা আল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে পুলিশের কাছে তাদের অপকর্মের সাক্ষী দেওয়ার কারণে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রগ কেটে হত্যা করেছে। তার ছেলের শাহজাহানের আরিয়ান নামে এক শিশু সন্তান রয়েছে। দেড় বছর আগে আরিয়ানের মা মারা যায়। এখন সে বাবাহারা হলো। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি চক্র মাদক ব্যবসা, জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এক সময় শাহজাহান তাদের মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। সেই মাদকের টাকার লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। সে টাকার জন্য শাহজাহান খুন হয়। তবে ওই চক্রটি নির্বিঘ্নে ওই এলাকায় অপকর্ম করে গেলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল মোহাম্মদ বারী বলেন, পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাত করেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।