ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আইনজীবী হত্যা: আসামির পক্ষে ওকালতনামা, অতিরিক্ত পিপির পদত্যাগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৪, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
আইনজীবী হত্যা: আসামির পক্ষে ওকালতনামা, অতিরিক্ত পিপির পদত্যাগ
ছবিতে আইনজীবীদের অবস্থান -সংগৃহীত

চট্টগ্রামে আইনজীবীদের বিক্ষোভে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এক আইনজীবী। ঐ আইনজীবীর নাম নেজাম উদ্দীন। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১৭ আসামিকে সোমবার সকালে কারাগার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। এরমধ্যে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। সেখানে দুই আসামি মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোহাম্মদ নুরুর আইনজীবী হিসেবে ওকালতনামা দেন নেজাম উদ্দীন। খবর পেয়ে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কার্যালয়ে জড়ো হন সাধারণ আইনজীবীরা। পিপি ও এপিপির পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে এপিপির কাছ থেকে সাদা কাগজে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেন তারা।

আইনজীবীদের অভিযোগ, মহানগর পিপি মফিজুল হক ভূইয়া আলিফ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিদের জামিনের জন্য তার জুনিয়রকে (এপিপি) দিয়ে আবেদন করিয়েছেন। একজন সরকারি কৌঁসুলি হওয়া সত্ত্বেও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জামিন প্রার্থনা করে পিপি পদের অমর্যাদা করেছেন তিনি। 

Advertisement

জানতে চাইলে আইনজীবী নেজাম উদ্দীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র। আমি জানতাম না এ আসামিদের জন্য ওকালতনামা নিয়েছে।

তবে জুনিয়র ওকালতনামা দেওয়া প্রসঙ্গে কিছু জানেন না বলে জানান মহানগর পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আইনজীবীদের দাবি মতো পদত্যাগ করেছেন নেজাম উদ্দীন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আইনজীবী হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় চট্টগ্রাম বারের কোনো আইনজীবীকে অংশ না নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও একজন আইনজীবী দুই আসামির পক্ষে ওকালতনামা দেওয়ায় আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। পরে ঐ আইনজীবী তার ওকালতনামা প্রত্যাহার করে নেন। একই সঙ্গে এপিপির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) কোতোয়ালি থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যানটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।

একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে  চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর এবং চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তার বাবা জামাল উদ্দিন। এতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

একইদিন শুক্রবার কোতোয়ালি থানায় আরো একটি মামলা করেন আলিফের বড়ভাই খানে আলম। আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ১১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।

এর আগে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। নতুন দুটি নিয়ে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) আদালত এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!