ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রবাসে গিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানো হলো না সবুজের

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪২, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
প্রবাসে গিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানো হলো না সবুজের
ছবিতে সবুজ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের যুবক সবুজের (২৫) মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে সৌদি আরবে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর খবরে ভৈরবে তার পরিবারসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

নিহত যুবক মো. সবুজ মিয়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আব্দুল কাদির মিয়ার ছেলে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমান সবুজ মিয়া। ৭ মাস আগে সৌদি আরবে একটি ভবনের কাজ করার সময় একতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। এ সময় সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। ৭ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে থাকার পর ৯ ডিসেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় মারা যান তিনি। 

Advertisement

নিহতের স্বজনরা জানান, বিভিন্ন কাজের জন্য তিনি খুব পরিশ্রমী ছিলেন। নদী থেকে মাছ ধরার কাজের পাশাপাশি নিজ বাড়িতে একটি দোকান চালাতেন। গত চার বছর আগে একই ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের জালু মিয়ার মেয়ে জিয়াসমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহতের বোন কল্পনা বেগম জানান, আমার ভাই বিদেশ যাওয়ার পর আমাদের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছিল। সংসারে উন্নতির জন্য দেড় বছর আগে ফ্রি ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। আমার ভাইয়ের রোজামনি নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। আমরা শেষবারের মতো ভাইকে দেখতে চাই।

নিহতের বাবা আব্দুল কাদির বলেন, সবুজ আমার বড় ছেলে। আমার আরেকটি ছেলে রয়েছে। তারা দুই ভাই একসঙ্গে সৌদি আরবে থাকে। গত দেড় বছর আগে সবুজ সৌদি আরবে যান। প্রথমে কষ্ট করলেও ওইখানে পরে তার ভালো অবস্থান তৈরি হয়েছিল। ৭ মাস আগে ওইখানে একটি ভবনে নির্মাণ কাজ করার সময় হঠাৎ করে একতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে যায়। সোমবার রাতে শুনতে পাই আমার ছেলে মারা গেছে। আমার সংসারটা এখন এলোমেলো হয়ে গেল। আমি কী করে সব সামলাবো বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে আগানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ বলেন, অনেক কষ্ট করে বাবা-মা তার সন্তানকে প্রবাসে পাঠায় সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাবে বলে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এক দুর্ঘটনায় ঝড়ে গেল একটি তাজা প্রাণ। সবুজ অনেক পরিশ্রমী ছেলে ছিল। আল্লাহ পরিবারকে শোক সইবার তৌফিক দান করুন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন জানান, এ প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমি প্রশাসনিকভাবে খবর নিচ্ছি। নিহতের পরিবার যেন ছেলের মরদেহ দেশে আনতে পারে প্রয়োজনে সেই ব্যবস্থা করবো। সরকারিভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!