ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ফেরি পারাপারে টোল আদায়ে হরিলুট

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪৭, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
ফেরি পারাপারে টোল আদায়ে হরিলুট
সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে

কিশোরগঞ্জের বালিখলা ও মিঠামইন ফেরিঘাটের টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের নিয়োগকৃত লোকজনের হাতে প্রায়ই লাঞ্ছিত হতে হয়। এসব কারণে পরিবহন শ্রমিকেরা ইজারা কর্তৃপক্ষের লোকজনের হাতে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টোল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অতিরিক্ত টোল দেওয়া জেলা সদরের মামুন জানান, তিনি নিয়মিত এই ফেরি দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। ভোগান্তির চরমে এখন কিশোরগঞ্জ বালিখলা ও মিঠামইন ফেরি। এখানে চার্টবিহীন ইজারাদারদের ইচ্ছামতো টোল আদায় করা হচ্ছে ৫ টাকার টোল ২০০ টাকা, ৪০ টাকার টোল আদায় হচ্ছে ২০০০ টাকা, তবুও কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই এসব লেনদেন হচ্ছে, যা একপ্রকার হরিলুট। তখন তিনি ইটনা টু চামড়া ও বালিখলা টু মিঠামইন ফেরি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে হাওরের মিঠামইন উপজেলা সদরে যোগাযোগ এখন সড়ক পথেই রক্ষা করা যায়। ফলে হাওরের তিন উপজেলা মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা থেকে কেবল জেলা সদর নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতেও এই সড়কটি বেশ জনপ্রিয়। সড়ক পথে এই যোগাযোগ রক্ষার জন্য মিঠামইন উপজেলার পাশে ঘোড়াউত্রা নদী ও করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলায় নাকচিনি নদীতে সড়ক ও জনপদের দুটি ফেরি রয়েছে।

নিয়মিত যানবাহন থেকে টোল আদায়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। ইজারা আদায় কর্তৃপক্ষের দাবিকৃত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন যানবাহন চালকেরা। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে ইজারাদারের নিয়োগকৃত লোকজনের হাতে প্রায়ই লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে তাদের। এসব কারণে পরিবহন শ্রমিকেরা ইজারা কর্তৃপক্ষের লোকজনের হাতে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টোল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে বালিখলা ফেরির সুপারভাইজার রাশেদ খান ও মিঠামইন ফেরির সুপারভাইজার খাইরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মো. ফয়সাল বলেন, আমাদের বালিখলা ফেরিঘাটের কার্যক্রম এরমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা ফেরিঘাট পরিচালনার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। ফেরিঘাট পরিচালনার মধ্যে যদি কোনো অনিয়ম কিংবা অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করবো এবং এ বিষয়ে যদি প্রশাসনিক কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!