শীতে দুশ্চিন্তায় নিম্নআয়ের মানুষ
চলছে পৌষ মাস। কিশোরগঞ্জে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এখন সন্ধ্যা-রাত-সকাল পুরোটা সময় ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। শীত যতই ঘনিয়ে আসছে গ্রামাঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষের চিন্তা ততই বাড়ছে। ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় সময় পার করছেন দরিদ্র মানুষগুলো। কারণ এসব মানুষের শীত নিবারণের প্রধান বস্ত্র গরম কাপড়, কম্বল কিংবা লেপ যা অনেকের নেই। সমাজের বিত্তবান কিংবা বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের কাছ থেকে যেসব কম্বল বা লেপ সংগ্রহ করেছিলেন শীতের রাতে আরাম করে ঘুমানোর জন্য, সেসব গরম কাপড় আর নেই তাদের মাঝে। এতেই চিন্তা বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। যে হারে কাপড়, তুলার দাম আর শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে তাতে দাম বেড়েছে লেপ তোশকেরও। এ জন্য গরম কাপড়ের চিন্তাটা আরো দ্বিগুণ হয়ে দেখা দিচ্ছে তাদের মাঝে।
ভ্যানচালক হযরত আলী বলেন, সংসারের প্রয়োজনে সকাল থেকে ভ্যান নিয়ে ছুটতে হচ্ছে। চাল ডালসহ সব জিনিসের দাম বেড়েছে। সংসার চালাবো না শীতবস্ত্র কিনবো বুঝতে পারছি না।
মিশুক রিকশাচালক আবুল বলেন, শীতের কারণে আয় রোজগার কমে গেছে। সংসার চলে না। কিভাবে চলবো এটাই টেনশন। শীতের প্রভাবে শহরে মানুষের উপস্থিতি কম। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
.png)
ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, তীব্র শীতের সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। এতে ভ্যান চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও পেটের তাগিদে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি।
শহরের বড়বাজারে ফুটপাতে শীতের কাপড় বিক্রি করেন রমজান আলী। তিনি বলেন, এ বছর কয়েকদিন যাবৎ তীব্র শীত পড়ায় কাপড় মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র এসেছে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায়, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনভোগান্তি বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল মানুষ কষ্টে জীবন যাপন করছে। হাঁড়কাঁপানো শীতে হাটবাজার ও রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঘরে ঘরে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে বৃদ্ধ ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে কম্বল বিতরণ করা শুরু হয়েছে। বিতরণের কার্যক্রম চলছে। এ বছর পর্যাপ্ত সংখ্যক শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, শীতজনিত রোগে অনেক শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের যথাযথ সেবা দিতে চিকিৎসকরা সচেতন রয়েছেন।
এদিকে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে শুরু করে নিউটাউন, শোলাকিয়া, উকিলপাড়া, কানিকাটা, গাইটাল, বত্রিশসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার হতদরিদ্র আম-জনতা আসন্ন শীতে কাঁপছে। শীতের তীব্র প্রকোপে কাবু হয়ে তাদের দিন কাটছে খুব কষ্টে ও দীর্ঘ নিঃশ্বাসে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাড় কাঁপানো এ শীতে শীতকষ্ট লাঘবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বড় রকমের কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি। আসন্ন মাঘের অসহনীয় এ শীতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপকহারে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, এরইমধ্যে শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রতি উপজেলায় কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।