সরেজমিনে দেখে গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাঘ-সিংহের বেষ্টনীতে দায়িত্ব পালন করছেন রাজিব। বাঘ আর সিংহের বেষ্টনী পাশাপাশি হওয়ায় চোখে চোখে দেখে রাখছেন তিনি। বাঘ-সিংহ কেউ একটি চেঁচামেচি করলেই ছুটে যাচ্ছেন তার কাছে। আবার গায়ে একটু হাত বুলিয়ে দিলেই শান্ত হয়ে যাচ্ছে বাঘ-সিংহ। পশু-পাখিকেও যে বশে আনা যায়, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই রাজিব।
নিজের হাতে বাঘ-সিংহদের খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন। মাঝেমাঝে রাজিবের সঙ্গে অভিমান করতেও দেখা যায় তাদের। রাজিব আলতু করে হাত বোলালেই রাগ যেন সব উড়ে যায়। এভাবেই বাঘ-সিংহের সঙ্গে সংসার পেতেছেন রাজিব।
.png)
জানা গেছে, বর্তমানে সাফারি পার্কে জবা, তমা ও সম্রাট নামে তিনটি সিংহ এবং জয়, জুঁই, নয়ন ও আঁখি নামে চারটি বাঘ রয়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি বাঘ-সিংহ রয়েছে। তারা আলাদা আলাদা পাশাপাশি বেষ্টনীতে থাকে। আর তাদের দেখভাল করেন রাজিব।
২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় নয় বছর একটানা বাঘ-সিংহের বেষ্টনীতে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন রাজিব। এরমধ্যে বেষ্টনীর বাঘ-সিংহকে নিজের সন্তানের মতো করে গড়ে তুলেছেন। যার কারণে বাঘ-সিংহের দুঃখ-কষ্টগুলো তিনি অনায়াসে বুঝতে পারেন।
বাঘ-সিংহ বড় হয়ে যাওয়ার পরে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাকে জেব্রার বেষ্টনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের শেষের দিকে রাজিবকে আবারো বাঘ-সিংহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আগের মতো করে বাঘ-সিংহদের পরম মায়া-মমতায় আগলে রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহে ছয়দিন বাঘ-সিংহকে গরুর মাংস খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। প্রতিটি বাঘ-সিংহের জন্য ছয় কেজি করে গরুর মাংস সরবরাহ করা হয়। তবে প্রতি মঙ্গলবার তাদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না। ওইদিন তাদের খাবার হিসেবে শুধু পানি দেওয়া হয়। বাঘ-সিংহের শরীরে যেন চর্বি জমে না যায়, সেজন্য সপ্তাহে একদিন খাবার বন্ধ রাখা হয় বলে পার্ক সূত্রে জানা গেছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাজিব দীর্ঘদিন ধরে বাঘ-সিংহের বেষ্টনীতে দায়িত্ব পালন করছেন। যে কারণে তাদের সঙ্গে রাজিবের একটা হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বাঘ-সিংহের ভাষা যেমন রাজিব বোঝে, ঠিক রাজিবের ভাষাও বাঘ-সিংহ বুঝতে পারে। আসলে ভালো ব্যবহার দিলে যেকোনো পশু-পাখি পুষ মানে। তাদের সর্ম্পকই তার জলন্ত উদাহরণ।