সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের প্রবেশপথে কাউন্টার থেকে টিকিটের জন্য লাইন ধরেছেন হাজারো দর্শনার্থী। একটি পরিবারের ২০-৩০ জনের একটি বহর এসেছে পার্কে। তারা মনের মতো করে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। প্রবেশ করার পরপরই দর্শনার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন পশুপাখিদের বিভিন্ন বেষ্টনীতে। শিশুরা এসব পশুপাখি দেখে উৎফুল্ল হয়ে উঠছে। কেউ আবার হাতির পিঠে চড়ছে। কেউ কেউ আবার বানরের সঙ্গে লাফালাফি করছে। তবে বেশিরভাগ দর্শনার্থীর দেখা মিলেছে বাঘ-সিংহ, জেব্রা-কুমির, জলহস্তি আর হরিণের বেষ্টনীতে।
পার্কে ডুকে হাতের বাম পাশে রয়েছে অজগর সাপের বেষ্টনী। এরপর রয়েছে ভাল্লুকের বেষ্টনী। একটু হেঁটে গেলেই দেখা যাবে ইমু পাখি ও ময়ূরের বেষ্টনী। আরো সামনে গেলে দেখা মিলবে বড় একটি লেক। লেকের বিপরীত পাশে রয়েছে কুমিরের বেষ্টনী। এভাবে সামনের দিকে হেঁটে যেতে যেতে দেখা মিলবে পাখিশালা, হাতির পাল, জলহস্তির বেষ্টনী।
.png)
পার্কের ডানপাশে রয়েছে বাঘ-সিংহ ও হরিণের বেষ্টনী। সর্বদক্ষিণে রয়েছে জেব্রার পাল। তারা বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। নিদিষ্ট সময়ে এসে খাবার খেয়ে আবারো গহীন বনে চলে যায়। আর পার্কজুড়ে বানরের বিচরণ তো আছেই!
পার্কের মূল ফটকের একটু দূরে রয়েছে পিকনিক স্পর্ট। সেখানে বাচ্চাদের খেলার জন্য রয়েছে নানা খেলনা। দর্শনার্থীদের বসার জন্য ব্যবস্থাও রয়েছে। পিকনিক স্পর্টে রয়েছে রান্নার জন্য সুব্যবস্থা। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের জন্য পিকনিক স্পর্টে রান্নাসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ সারতে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন শেড। মনে হবে যেন বনভোজন চলছে।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, সরকারি চাকরিতে আছি। বুধবারে বড়দিনের বন্ধ ছিল। অফিসকে বলে বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়েছি। তাছাড়া মেয়েদের স্কুলও বন্ধ। তাই বুধবার রাতে পুরো পরিবার নিয়ে রাতের বাসে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পর্ট ঘুরেছি। সাফারি পার্কটি কক্সবাজার থেকে কাছে শুনে শুক্রবার দুপুরে পার্কে এসেছি। পার্কের বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেছি। ভালোই লেগেছে।
দিদারুল আলম চৌধুরীর দুই মেয়ে মরিয়ম আর জান্নাতুল চৌধুরী বলেন, খুব সুন্দর পরিবেশ। গাছগাছালি ও পশুপাখিদের চিৎকারে পরিবেশটা ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছে যেন গহীন বনের পথ ধরে হাঁটছি। পার্কের বাঘ-সিংহ, ভাল্লুক, জলহস্তি, কুমির থেকে শুরু করে সব প্রাণী দেখেছি।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো.মাজহারুল ইসলাম বলেন, বড়দিনের বন্ধ আর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি হওয়াতে দর্শনার্থী সমাগম বেশি। দৈনিক ৩-৪ হাজার করে দর্শনার্থী আসছেন পার্কে। এছাড়াও প্রতিদিন ১৫-২০টি পিকনিক বাস আসছে। যারা পিকনিক বাস নিয়ে আসছেন, তাদের জন্য পার্কের সামনে পিকনিক স্পর্ট রয়েছে। ওখানে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পিকনিক স্পর্টের পাশে কিডস জোন রয়েছে। ওই জোনে বাচ্চাদের জন্য নানা খেলনার ব্যবস্থা রয়েছে। পার্কে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তাকর্মীরা দর্শনার্থীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।