আসামিরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউপির দৌলতপুর গ্রামের গুলমান মোল্যার ছেলে মো. ফারুক মোল্যা (৫০), আইয়ুব আলীর ছেলে রজিবুল মোল্যা (৩০), সাত্তার মোল্যার ছেলে চঞ্চল মোল্যা (৩৫) ও শহিদ মোল্যার ছেলে শফিকুল মোল্যা (৩৩)। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মো. ফারুক মোল্যাকে শনিবার ভোরে মাগুরা জেলার শালিখা থানার হরিশপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে মাইজপাড়া ইউপিতে টিসিবির মালামাল বিতরণ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন বাসনা মল্লিক। এ সময় রজিবুলের ফোন পেয়ে পাওনা টাকা আনতে যান তিনি। মাইজপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার মোল্যার বাড়িতে জোরপূর্বক ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই ইউপি সদস্যকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন।
.png)
এজাহারে আরো বলা হয়, ভুক্তভোগী বাসনা মল্লিক বিষয়টি সবাইকে জানানোর হুমকি দিলে তাকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দেন অভিযুক্তরা। বাড়ি ফিরে আত্মসম্মানের ভয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেননি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তাকে যশোরের ধলগ্রাম বাজারে একজন পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এ সময় তিনি ছেলে রিংকু মল্লিকের কাছে তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা ও জড়িতদের নাম বলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় মরদেহের সৎকার করেন নিহতের স্বজনেরা।
নড়াইল সদর থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, মাইজপাড়া ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা গ্রামের নেপাল মল্লিকের স্ত্রী বাসনা মল্লিক মাইজপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের (সাধারণ ওয়ার্ড ১, ২ ও ৩) সদস্য। ওই ইউপি সদস্যের ছেলে বাদী হয়ে তার মাকে গণধর্ষণ ও বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এরমধ্যে আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িত বাকি সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।