ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কালের সাক্ষী প্রাচীন স্থাপনা খানবাড়ী মসজিদ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০২, ১২ মার্চ ২০২৬
কালের সাক্ষী প্রাচীন স্থাপনা খানবাড়ী মসজিদ
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস ও কালের সাক্ষী প্রাচীন স্থাপনা খানবাড়ী মসজিদ। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপজেলা সদর ইউনিয়নের জোরবাড়িয়া গ্রামের পূর্বভাটিপাড়া এলাকায় প্রায় আড়াইশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন স্মৃতি বিজড়িত এ মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘খানবাড়ি মসজিদ’ নামে পরিচিত। নান্দনিক কারুকাজ, পুরো দেয়াল এবং চারপাশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের কারণে এই মসজিদ এলাকার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২০০ হিজরি সালে তৎকালীন প্রভাবশালী ও দানবীর ব্যক্তি হায়াত খান এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। চুন-সুরকি ও ইট দিয়ে নির্মিত মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৪০ ইঞ্চি। চৌকো কাঠামোর ওপর ছাদজুড়ে রয়েছে একটি বিশাল গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে চারটি পিলার, যার ওপরের অংশ কলসি আকৃতির কারুকাজে অলংকৃত। মসজিদের ভেতর ও বাইরের কারুকাজ এত সুন্দর যা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে এবং শোভাবর্ধন করেছে।

মসজিদের সামনে শানে বাঁধানো ঘাটসহ প্রায় এক একর আয়তনের একটি পুকুর এবং পেছনে প্রায় ৫২ শতাংশ জমির আরেকটি পুকুর রয়েছে। মসজিদের দুই পার্শ্বে রয়েছে কবরস্থান, যেখানে এলাকার মৃত ব্যক্তিদের দাফন করা হয়। পুকুরের পানিতে মসজিদের ছায়া ভেসে ওঠা দৃশ্যটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, মসজিদ নির্মাণের সময় দেশে সিমেন্টের ব্যবহার ছিল না। তাই চুন-সুরকি ও ইট দিয়ে অত্যন্ত মজবুতভাবে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, এই মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য তৎকালীন সময় ফ্রান্স থেকে কারিগর আনা হয়েছিল।

মসজিদের পাশেই রয়েছে ‘বিবিঘর’ নামে পরিচিত সুসজ্জিত একটি ঘর। একসময় অসুস্থতার নিরাময়ের আশায় মানুষ এখানে মানত করতেন। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সেই মানতের শিরনি মুসল্লিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বর্তমানে এ প্রথা প্রায় বিলুপ্তের পথে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সাত্তার খান বলেন, এই মসজিদ যখন নির্মাণ করা হয়, তখন এ দেশে সিমেন্ট ছিল না। চুন-সুরকি ও ইট দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। শুনেছি ফ্রান্স থেকে লোক এনে এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। যিনি মসজিদটি নির্মাণ করেন, তিনি এলাকায় তৎকালীন সময়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। মসজিদের জন্য সাত একর জমি দান করে গেছেন সেই ব্যক্তি।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও তাবলিগের আমির আবদুল করিম খান বলেন, হায়াত খান মৃত্যুর আগে মসজিদের নামে সাত একর জমি দান করে গেছেন। এসব জমির আয় থেকে বর্তমানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে।

মসজিদের মুসল্লি মো. জাকির হোসেন বাপ্পি খান বলেন, এই মসজিদে নামাজ পড়তে খুব ভালো লাগে। গরমে ভেতরে ঠান্ডা এবং শীতে উষ্ণ অনুভূত হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা চুন-সুরকি ও ইট দিয়ে চুন-সুরকি ও ইট দিয়ে খানবাড়ি মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্মের মানুষ এসে প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করবেন।

প্রকৌশলীরা বলেছেন, হয়ত আরো এক থেকে দেড়শ বছরেও মসজিদের তেমন কোনো ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান খান বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এই মসজিদ নির্মাণ করে গেছেন। এই মসজিদ পরিচালনার জন্য বাহির থেকে কোনো দান গ্রহণ করা হয় না। আমরা নিজ উদ্যোগে অর্থের জোগান দিয়ে এটি পরিচালনা করে আসছি।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: ময়মনসিংহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!