ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘হামার উন্নতি হয় না, ১০ গ্রামের মানুষের একখান বাঁশের পুল’ 

আব্দুর রশীদ শাহ, নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০২, ২ জুলাই ২০২৬
‘হামার উন্নতি হয় না, ১০ গ্রামের মানুষের একখান বাঁশের পুল’ 
নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। আশপাশের ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেওনাই নদীর ওপর এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও দেওনাই নদীর ওপর এখনো একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসানে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘মোড় গ্রামোত অনেক কিছু ঘটে বাবা এখানে আগুনের গাড়িলা ঢুকে না। হামার আস্তা নাই। অ্যাম্বুলেন্স আসে না। হামার উন্নতি হয় না, ১০ গ্রামের মানুষের একখান বাঁশের পুল। যুদ্ধ পর ভারত থেকে ফিরে আসার পর শুনি পুল হবে, কিন্তু আজও হয় না।’

Advertisement

সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের সাঁকো দিয়ে নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ, কাচারি, শিশাতলী, জংলীপাড়া, দুবাছুরি, বল্লমপাঠ, কচুয়া ও দাঁড়িহারা জলঢাকা উপজেলার ডিয়াবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন।

দেওনাই নদীর ওপর বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের বাঁশের সাঁকো।এছাড়া নীলফামারী জেলা শহর, ডোমার ও জলঢাকার শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকো। নদীর ওপর নির্মিত নড়বড়ে সাঁকোটি দুই ঘাটের সংযোগ বজায় রেখেছে। প্রতিদিন দুই পাড়ের শত শত মানুষ এটি ব্যবহার করেন।

পাকা সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। অনেকেই সাইকেল ও মোটরসাইকেল হাতে নিয়ে হেঁটে সাঁকো পার হন। পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করেন অনেকে।

শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে চলাচল করতে হয়। কারণ, এর আগেও অনেকেই সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। সামান্য অসাবধানতা ঘটলেই যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

বসুনিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা জীবন রায় বলেন, ‘ফাটা বাঁশের বাতাতে হামরা চলি খুব কষ্ট হয়, আবাদ করে ও শান্তি নাই আমাগো ছোঁয়া প‌ওয়ালা ইস্কুলে যায় পানিত বাতা ভাঙ্গি পরে।’

বসুনিয়ারডাঙ্গার সেলিম বলেন, ‘আমাগো দুঃখকষ্টের কথা কেউ শোনে না। বর্ষার সময় সাঁকোটি পার হওয়া অনেক কষ্টের। নদীভরা পানি থাকে। তখন সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যায়। বহু বছর ধরে শুনি, এখানে সেতু হবে। কিন্তু সেতু আর হলো না। আর হবে কী না, সেটাও জানি না।’

দেওনাই নদী।একই গ্রামের ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই শুনছি ব্রিজটি হবে, কিন্তু আজও হয়নি।  ভোটের সময় ওই ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়টি ওঠে। ভোট ফুরালে আর কারও দেখা মেলে না। পাকা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে এলাকার এমপি, পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে অনেকবার বলা হয়েছে কিন্তু কারও কোনো সাড়া নেই।’

মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব রায় বলেন, ‘হামার কথা কারো শুনেন না। মুই একঠে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করো। আমার বাসা নদীর ওই পাড়ে মোক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি । অনেক সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হওয়া যায় না। ছেলে মেয়েরা বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে পারে না। সেতুর অভাবে রোগীদের পড়তে হয় দুর্ভোগে।’

নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত।লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘ব্রিজটি হলে হাজারো মানুষের যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। এ বিষয়ে এলজিইডি অফিসে অনেকবার যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।’

জেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবির হোসেন বলেন, ‘একটি প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই স্থানে একটি সেতু করার জন্য চেষ্টা করছি, আশা করি খুব দ্রুত হয়ে যাবে।’

নীলফামারী-২ আসনের এমপি আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘নীলফামারী সদর আসনের সবগুলো ব্রিজের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নীলফামারী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!