ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সঞ্জীব দাবি করেছেন, শ্রমিকদের ওপর ‘জ্বিনের আছর’ হতে পারে। এ বিশ্বাস থেকে কারখানায় একাধিক মসজিদের ইমাম এনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
.png)
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের প্রায় সবাই একই ধরনের উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব শুরু হয়। কেউ কেউ অজ্ঞানও হয়ে পড়েন। অসুস্থদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কারখানার সুইং অপারেটর মো. হাবিব বলেন, ‘আজও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিয়েছে।’
এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগের এক নারী শ্রমিক প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে একের পর এক শ্রমিক আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন উৎপাদন বন্ধ রেখে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকদের ভাষ্য, গত ২৪ জুন একই কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই আবার টানা দুই দিনের গণঅসুস্থতা নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
শ্রমিক আশিক নুর বলেন, ‘আমরা কুসংস্কারের ব্যাখ্যা চাই না। আমরা জানতে চাই কেন বারবার শ্রমিক অসুস্থ হচ্ছেন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হচ্ছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য ও শিল্প নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় অনুমাননির্ভর ব্যাখ্যার পরিবর্তে কর্মপরিবেশ, বায়ুর মান, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, খাদ্য ও পানির মান এবং মানসিক চাপ সব বিষয়ই বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাবে।
পরপর একজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং তার পরই দুই দিনে শতাধিক শ্রমিকের রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনায় শ্রীপুরজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের একটাই দাবি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।