ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বান্দরবানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি

আবুবকর ছিদ্দিক, বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৯, ৮ জুলাই ২০২৬
বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অব্যাহত ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে জেলা শহরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম উপজেলায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিতরা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আওতায় পড়ে।

বান্দরবান সরকারি শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

Advertisement

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা তানভীর হোসাইন বলেন, বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার বন্যার পানিতে ঘরের অনেক মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাঙ্গু নদীর পানি ১৪ দশমিক ৮৮৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিনি জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগরসহ নদীতীরবর্তী ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন।

জেলা আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মঙ্গলবারের চেয়ে বেড়েছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির শঙ্কা থাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় সরে যেতে বলা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। খোলা হয়েছে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: বান্দরবান
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!