বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া এ ভিড় শনিবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। অনেককে যানবাহনের ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি ড্রাম, জারিকেন ও বোতলে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতেও দেখা গেছে।
শনিবার সরেজমিন নীলফামারী সদর, পলাশবাড়ী ভবন বাজারসহ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি গ্রাহক একসঙ্গে তেল নিতে আসায় অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
.png)
পলাশবাড়ী ভবন বাজারের মেসার্স হক ফিলিং স্টেশন-এ তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক জুবায়ের আলম বলেন, ফেসবুকে তেল সংকটের খবর দেখে তেল নিতে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি বিশাল লাইন। যদি সত্যিই কোনো সংকট না থাকে, তাহলে এমন গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করা উচিত নয়।
নীলফামারী সদর উপজেলার মেসার্স মুক্তা ফিলিং স্টেশন, মেসার্স ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স রাজা ফিলিং স্টেশন-এর দায়িত্বশীলরা জানান, ডিপো থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণেই একসঙ্গে অতিরিক্ত গ্রাহক তেল নিতে আসছেন। এতে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও জ্বালানি তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলেন, অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অযথা ভোগান্তি বাড়বে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় কৃত্রিম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ যেন অতিরিক্ত জ্বালানি তেল না কেনেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করলেই কোনো সমস্যা হবে না।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।