দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবুল কাশেম, মুকাদ্দেস ও স্বপন। তারা সবাই সরিষাবাড়ী উপজেলার মাগুরিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত শিশুর পরিবার।
.png)
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম দিদার বলেন, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাগুরিয়া পাড়া এলাকায় কাঁঠাল গাছের পাতা কুড়ানো নিয়ে আসামিদের সঙ্গে প্রতিবেশী সবুজা বেগম নামের এক নারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা তাকে মারধর করেন। এটি দেখে সবুজা বেগমের দেবর বাবুল মিয়া বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আসামিরা তাকেও বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর ওইদিন দুপুর থেকেই বাবুল মিয়ার সাত বছরের ছেলে সুমন নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর সরিষাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে চাপারকোনা বাজারের কাছে ঝিনাই নদী থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনজীবী দিদারুল ইসলাম আরো উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় সুমনের বাবা বাবুল বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে সরিষাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৫জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আলামত গোপন করার অপরাধে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।