দুর্ঘটনার পর তিন নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও স্টেশনের এক ও দুই নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ৪৬১ নম্বর কমিউটার ট্রেনটি রংপুর রেলস্টেশনের তিন নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিনের আটটি চাকা এবং পেছনের একটি বগির দুটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। এতে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই লাইনে সাময়িকভাবে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
.png)
খবর পেয়ে লালমনিরহাট থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেলের লালমনিরহাট বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধিমান ভৌমিক। এ সময় রেলের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ধিমান ভৌমিক জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় লালমনিরহাটের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন), লোকো ইন্সপেক্টর লালমনিরহাট, নির্বাহী প্রকৌশলী দিনাজপুর এবং সহকারী যান্ত্রিক প্রকৌশলী (সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকম)।
তিনি বলেন, ‘ট্রেনটিকে কেন তিন নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তদন্তে যাদের দায় পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইঞ্জিনের আটটি চাকা ও একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে এতে স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। বিকেলের মধ্যে উদ্ধার অভিযান শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, রংপুর রেলস্টেশনের তিন ও চার নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। এসব লাইনে পর্যাপ্ত পাথরও নেই। লাইনের দুরবস্থার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘রেললাইনের তিন নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও তিন ও চার নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’
স্টেশনের ভ্রাম্যমাণ দোকানদার হরিপদ রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মালবাহী ট্রেন এ লাইন দিয়ে চলাচল করলেও এমন দুর্ঘটনা আগে ঘটেনি। তাঁর প্রশ্ন, লাইনটি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ট্রেনটির নির্ধারিত পথই ছিল তিন নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একই সময়ে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়।
তিনি জানান, কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়েছে। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে রংপুর রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।
স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আরও বলেন, দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। লাইনচ্যুত হওয়া অংশটুকু ছাড়া অন্য কোনো ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।