ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো, সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর
প্রকাশিত: ১৯:১৪, ৮ আগস্ট ২০২৬
ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো, সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনার শাখা নদীর ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই হাজার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার চার ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।

মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা বাঁধের মাথা এলাকায় গাবেরগ্রাম-নাংলা সড়কের ওপর প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকোটি স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সাঁকোটির পাটাতন ও বাঁশ পচে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হেঁটে পার হওয়ার সময় সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে দুলতে থাকে। তবুও প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে এটি পার হতে হচ্ছে।

সাঁকোর দুই পাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও মসজিদ। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সাঁকো ব্যবহার করেন। অনেক সময় পা পিছলে শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা পানিতে পড়ে আহত হন। এতে বইপত্রও নষ্ট হয়।

স্থানীয়রা জানান, সেতু না থাকায় জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সসহ কোনো যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। এতে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একই সঙ্গে কৃষকেরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। সাঁকো এড়িয়ে উপজেলা সদরে যেতে হলে তাদের অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে, কেউ আত্মীয়তা করতেও আগ্রহী হয় না। আমরা আর কিছু চাই না, শুধু একটি সেতু চাই।’

শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ বলেন, সাঁকোটি পার হওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। এতে বইপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেকে আহতও হয়।

কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এখানে একটি সেতু হলে কৃষকদের অনেক উপকার হতো।’

বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা বলেন, একটি সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং তাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, গাবেরগ্রাম-নাংলা সড়কের ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!