জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসটি উপলক্ষে রবিবার সকাল ১০টায় বান্দরবান আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ডা. মং উসাথোয়াইয়ের সভাপতিত্বে ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রঙিন পোশাক, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও ব্যানার-ফেস্টুন হাতে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন র্যালিতে। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজার মাঠে এসে শেষ হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, খুমীসহ ১১ জনগোষ্ঠীর নারী ও পুরুষেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বর্ণিল পোশাকে তাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।
.png)
এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কৃপা ত্রিপুরা, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী রিপন চক্রবর্তীসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নেতারা।
এসময় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমি অধিকার রক্ষায় সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এই আদিবাসী সৃকৃতি দেওয়া না হলে আমরা আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে আমরা একত্রিত হচ্ছি।
সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দটি স্বীকৃতি দেওয়া না হলে তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা পাবে না। তাই সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োজন। পাহাড়ের নারীদের ধর্ষণ থেকে মুক্তি দিতে হবে। স্বাধীনভাবে চলার অধিকার দিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান। তারা পার্বত্য জেলায় অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ এবং আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, এ দিবস শুধু আনন্দ ও উৎসবের নয়; বরং নিজেদের অস্তিত্ব, অধিকার ও পরিচয় তুলে ধরারও একটি দিন।