ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ৯ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
ফাইল ফটো

টাঙ্গাইলে পৃথক হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন নারীকে অপহরণের পর ধর্ষণের মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস পৃথক মামলায় এ রায় দেন।

স্ত্রী হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন বাসাইল উপজেলার ছামাদ মিয়ার ছেলে শাহিনুর রহমান। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শাহিনুর রহমানের সঙ্গে স্বপ্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহিনুর তার স্ত্রী স্বপ্নাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত স্বপ্নাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মুন্নান মিয়া ওইদিনই বাসাইল থানায় মামলা করেন।

মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত শাহিনুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে সখীপুরে মায়ের সঙ্গে কবিরাজের বাড়িতে যাওয়ার পথে এক নারীকে অপহরণ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে একটি বাড়ির সামনে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই সখীপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সখীপুর উপজেলার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. শহিদ, মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ইসমাইল এবং মজিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান।

রায়ে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: টাঙ্গাইল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!