ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চার দিনের মাথায় গ্যাস সরবরাহ, কর্মচঞ্চল হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চল

ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৪:২৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬
চার দিনের মাথায় গ্যাস সরবরাহ, কর্মচঞ্চল হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চার দিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করলে একে একে কারখানা চালু করেন মালিকপক্ষ। কাজে ফিরতে শুরু করেন শ্রমিকেরা। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হলে শনিবারের মধ্যেই সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শনিবার সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কারখানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও চিঠির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে।

Advertisement

তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ থাকলে মালিকপক্ষের দুশ্চিন্তা বাড়ে। তাই গ্যাস সরবরাহ যেন নিয়মিত ও স্বাভাবিক থাকে, সেটিই প্রত্যাশা।

স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ কিছুটা শুরু হলেও শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়। সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর জেনারেটর চালু করে কারখানার উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর কারখানা চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।

কারখানার শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় চাকরি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে মালিকপক্ষ কত দিন লোকসান দিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা ছিল। শনিবার কাজে ফিরতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

আরেক শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, কয়েক দিন কারখানা বন্ধ থাকায় যেমন দুশ্চিন্তা ছিল, তেমনি বেকার সময় কাটানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। কাজে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত।

শ্রমিক শিউলি আক্তার বলেন, কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো। এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ত। কারখানা আবার চালু হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় ২০ দিন ধরে সরবরাহ কম থাকলেও গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।

গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর বড় একটি অংশ রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে সরবরাহ চালু হয় এবং শনিবার সকাল থেকে অধিকাংশ শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়েছিল। শনিবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় তাঁরা আবার কর্মস্থলে ফিরেছেন। দীর্ঘ চার দিনের স্থবিরতার পর শ্রমিকদের পদচারণায় ফের মুখর হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: হবিগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!