সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিজ নিজ থানায় এজাহার দুটি দেন।
লালপুরের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে কয়েকজন সরকারদলীয় নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। একপর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ইউএনওর কার্যালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন।
.png)
এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র এলোমেলো এবং সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন। তাঁকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ইউএনওর শরীর ও কক্ষে ডিম ছোড়া হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগাতিপাড়ার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং আপত্তিকর স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে বিক্ষোভকারীরা তাঁকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে তাঁরা সেখানে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও করা হয়েছে।
বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের অভিযোগ, নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সরকারি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পৃথক দুটি এজাহার করা হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।