ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ইসলামী আন্দোলনের নেতা হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৩, ২১ আগস্ট ২০২৬
ইসলামী আন্দোলনের নেতা হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশা গ্যারেজ মালিক ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

Advertisement

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বুলবুল সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি রিকশা গ্যারেজ পরিচালনার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের রিকশা গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় তিনি বন্দর থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় সিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর থেকেই মামলা তুলে নিতে বুলবুলকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের সঙ্গে সিফাত ও তার সহযোগীদের দেখা হয়। এ সময় তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির মধ্যে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সিফাতকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!