স্বামীর দাবি, কিস্তির টাকা দিতে না পারায় জামিনদার খালা-শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্যের পর অভিমানে তিনি গলায় ফাঁস দেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরের দিকে ফতুল্লা পোস্ট অফিস রোডের কবরস্থান রোডের খোসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
.png)
নিহত বৃষ্টি ওই এলাকার কিবরিয়ার স্ত্রী। তাদের দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
স্বামী কিবরিয়া জানান, বৃষ্টির নামে একটি সমিতি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ২০০ টাকা করে কিস্তি দিতে হতো। মঙ্গলবার সমিতির মাঠকর্মী শামীমা কিস্তির টাকা নিতে তাদের বাসায় আসেন। টাকা না পেয়ে তিনি কিস্তির জামিনদার বৃষ্টির খালা-শাশুড়িকে বিষয়টি জানান।
কিবরিয়ার দাবি, বিষয়টি নিয়ে বৃষ্টির সঙ্গে তার খালা-শাশুড়ির মনোমালিন্য হয়। এতে বৃষ্টি রাগ ও অভিমান করেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
কিবরিয়া বলেন, বাসায় ফিরে তিনি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক জানান, বৃষ্টিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে বৃষ্টির সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকারিয়া ম্যানেজার সোহেল রানা। তিনি বলেন, মাঠকর্মী শামীমার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, বৃষ্টির সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। বৃষ্টি সেদিন কিস্তির টাকা দিতে পারবেন না জানালে শামীমা সেখান থেকে চলে যান। পরে জামিনদার ও সমিতির এক সদস্যকে বিষয়টি জানিয়ে তিনি চলে আসেন।
সোহেল রানা আরও বলেন, কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে তাদের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিস্তির টাকার জন্য কাউকে চাপ সৃষ্টি করা হয় না। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।