বুধবার (২৬ আগস্ট) নিখোঁজের তথ্য নিশ্চিত করেন পিন্টু দাসের কাছের আত্মীয় চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।
তিনি বলেন, শহরে ভাড়া থাকতেন পিন্টু দাস তার পরিবার। নানা কারণে ঋণ ছিল পিন্টু দাসের। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির জৈনক এক ব্যক্তি পিন্টু দাসকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল বলে খবর পাই। আর এরপরই তিনি প্রাণ বাঁচাতে হয়তো সপরিবারে নিখোঁজ আছেন।
অপর একটি পক্ষ বলছে, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে সে স্বর্ণ আর ফেরত দিতে পারছিলেন না। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়েছেন। একাধিক স্থানে দোকান স্থানান্তর করলেও সবশেষ তিনি মদিনা মার্কেটের নিচ তলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতেন। সেখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বন্ধক রাখতেন তার চার ভাগের একভাগ টাকা মানুষকে দিতেন।
.png)
এ ঘটনায় রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার পিন্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। পরে পিন্টুকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তার স্বর্ণালংকার আনতে যান। কিন্তু পিন্টু দাস স্বর্ণ না দিয়ে তিনি তাকে পরের দিন আসার জন্য বলেন। পরবর্তীতে পিন্টু দাস সপরিবারে উধাও হওয়ার সংবাদ পান। আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেন, মার্কেটটিতে প্রায় ৫/৬ মাস আগে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেন পিন্টু। তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা এবং মুদাফফরগঞ্জে তাদের আত্মীয় রয়েছে। এখন তিনি উধাও নাকি নিখোঁজ তা জানা নেই।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে নিজে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাব কিভাবে?আমাদের কাছে কোন অভিযোগ কেউ করেছে কিনা তা এখনি বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ বলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ এটা এই মাত্রই জানলাম। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে তাদের উদ্ধারে পদক্ষেপ নেব।