ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চাটমোহরে বসছে পুঁথি পাঠের আসর, চলছে প্রচার প্রচারণা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫১, ২৭ আগস্ট ২০২৬
চাটমোহরে বসছে পুঁথি পাঠের আসর, চলছে প্রচার প্রচারণা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার চাটমোহরে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে তরুণদের উদ্যোগে বসছে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর। 

আবহমান গ্রাম-বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এমন আয়োজন করছেন আয়োজকেরা। এই ডিজিটাল যুগেও গ্রামীণ আমেজ বজায় রাখতে হাতে লেখা পোস্টারে চলছে প্রচার-প্রচারণা।

সম্প্রতি চাটমোহরের থানা বাজার, ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ মোড়, জিরো পয়েন্ট, দলবেদিতলা, মির্জা মার্কেট, জার্দিস মোড়, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের দেয়ালে দেখা যাচ্ছে হাতে লেখা রঙিন কাগজের পোস্টার। দর্শক শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও পুরোনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই এমন ব্যতিক্রম প্রচারণা করছেন তারা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহার পাড়া গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে বসবে এই পুঁথি পাঠের আসর। চাঁদ, কুপিবাতি আর হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় গায়েন তার মায়াবি সুরের জাদুতে মাতিয়ে তুলবেন শ্রোতাদের।

বিলচলন ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ জিয়া বলেন, ছোট বেলায় দাদা-দাদির মুখে গল্প শুনেছি, বাস্তবে কখনও দেখিনি। কিভাবে পুঁথি পাঠ করে কাল দেখবেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, একসময় পুঁথি পাঠের আসরে পাঠ করা হতো, আমীর হামজা, আলিফ লায়লা, হাতেম তাই, কমলা সুন্দরী, আমি সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী, গাজিকালু ও চম্পাবতী কন্যা, বিবি সোনাভান, লাইলী মজনুর পুঁথি। তিনি বলেন, রাত হলেই হারিকেন বা বাতির মিটি মিটি আলোয় এলাকার সবাই মাদুরে বসে শুনতাম। তবে এখন আর তা দেখা যায় না। 

তিনি বলেন, সেসময়ে হানিফা, হামজা, হাতেম তাই, সোহরাব-রুস্তম, জৈগুন বিবি সহ বীর চরিত্র নিয়ে রচিত কাব্যগুলিই ছিলো বেশি জনপ্রিয়। 

বাংলাদেশ যাত্রা শিল্প উন্নয়ন পরিষদের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম কোরবান বলেন, যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, সার্কাস, পুঁথি পাঠ ছিল গ্রামীণ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, লোকজও উৎসবগুলো ছিলো একসময় বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। তবে ভিন্ন সংস্কৃতি চর্চা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন তা বিলুপ্তির পথে।

এ বিষয়ে পুঁথি পাঠের আয়োজক ডা. আতিক ও বিপ্লব আচার্য্য বলেন, এই সাহিত্যটি শতেরো'র সালের সাহিত্য। তারপর দীর্ঘদিন এটা বন্ধ ছিল। পরে আশি ও নব্বই দশকের দিকে আবার প্রচলিত হয়। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সহজ হওয়ায় আমাদের আদি সংস্কৃতিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের আদি সংস্কৃতি কে ফিরিয়ে আনতে হাতে তৈরি পোস্টারের মাধ্যমে পুঁথি পাঠের প্রচারণা করছি। 

তিনি বলেন, সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া মানে নিজেদের ভুলে যাওয়া। আমাদের যে আদি ও বর্ণীল সোনালী অতীত ছিল সেটি জানাতেই নিজ উদ্যোগে এই পুঁথি পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। শুধু পুঁথি পাঠ নয় পরবর্তীতে জারি-সারি গানেরও আয়োজন করতে চান বলে জানান তিনি। 

এ আসরে বিবি সোনাভান পুঁথি পাঠ করবেন নব্বই দশকের শিল্পী আসাদুজ্জামান দুলাল। এবং গাজিকালু ও চম্পাবতী পুঁথি পাঠ করবেন মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!