কারখানা সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের পাবনা, নাটোর, বগুড়া, টাঙ্গাইল জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হাড় প্রতি কেজি ১৭-১৮ টাকা দরে কেনা হয়। হাড়গুলো শুকানোর পর মেশিনের সাহায্যে গুড়া করে ২৪-২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়। প্রতি মাসে প্রায় দুই ট্রাক হাড়ের গুড়া খুলনায় মহাজনদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া কারখানায় নারী ও পুরুষ মিলে ২০ জনের মতো লোক কাজ করেছেন।
কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক শম্পা খাতুন ও আছের উদ্দিন বলেন, আমরা এখানে প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করি। দৈনিক ৩৫০ টাকা করে বেতন পাই যা দিয়ে আমার সংসার চলে। স্বামীর সঙ্গে আমার আয়ে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।
.png)
হাড় সংগ্রহকারী মফিজুল সেখ বলেন, আমরা কয়েকজন প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে হাড় সংগ্রহ করে এখানে ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করি। দৈনিক প্রায় গড়ে ২০ কেজি হাড় সংগ্রহ হয়। এ থেকে যে টাকা পাই তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে।
তিনি বলেন, গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন কসাইরা আর আগের মত হার ফেলায় না মাংসের সঙ্গেই হাড় বিক্রি করে দেয়। তাই এখন আগের মত আর হার সংগ্রহ করতে পারি না।
কারখানার মালিক হাফিজুল শেখ বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে এই ব্যবসা শুরু করি। সারা দেশে ছয়টি হাড়ের কালকারখানা রয়েছে তার মধ্যে সিরাজগঞ্জে একটি। আমরা কুড়ানো হাড় কিনে নিয়ে গুড়ো করে খুলনার ডিলার মাধ্যেমে বিক্রি করি। শুনেছি তারা এই সব গুড়া দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছে বিক্রি করে। অনেক সময় চাহিদা মত গুড়ো সরবরাহও করতে পারি না। এখন আবার হাড়ও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে আমাদের হাড়ের গুড়া উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়েছে।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে হাড়ের গুড়া ক্রেতা খুলনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, এই হাড়ের গুড়া থেকে গবাদি পশুর খাবার, মুরগির খাবার ও ওষুধ কোম্পানিতে ক্যাপসুল তৈরির কভার তৈরি হয়।