গ্রেপ্তার আল জিহাদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকার আল মামুন আহমেদের ছেলে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলার মেলান্দহ-ইসলামপুর সীমান্তবর্তী হারগিলা বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
.png)
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও কিশোরীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট রাতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে কিশোরীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন আল জিহাদ। পরে তাকে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় শাকিলের সেচপাম্পের পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড পাম্প হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আল জিহাদ কিশোরী রূপসীর গলায় তার পরনের ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও ওসি স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাম্প হাউস থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মো. ছায়ের উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এরপর সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ওসি স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) হাসিব আল মাহফুজ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎসের সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আল জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি স্নেহাশিস রায় বলেন, ঘটনার পর থেকেই মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিভিন্ন কৌশলে কাজ করে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আল জিহাদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, আদালতে সোপর্দ করা হলে আল জিহাদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি কিশোরী রূপসী আক্তারকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
ওসি আরও জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কিশোরীর বাবা ছায়ের উদ্দিন বলেন, ‘আমি বিচার চাই।’
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জামালপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।