জামালপুরে ভয়াবহ লোডশেড়িংয়ের ফলে জনরোষের আশঙ্কায় জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। বুধবার (১২ আগস্ট) জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
সমিতির আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। যা যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা যায়, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলায় তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। গ্রাহকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় ১৮ থেকে ১৯ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় ২০ থেকে ২১ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কখনো বিদ্যুৎ এলেও তা ২০ থেকে ২৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবখানেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
.png)
অপরদিকে জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস ও উপজেলার কয়ড়া সাব জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১ লাখের মতো গ্রাহক রয়েছে। এতে দৈনিক বিদ্যুৎতের চাহিদা রয়েছে ২৫ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। কিন্তু মিলছে ৭ মেগাওয়াট। জোনাইল বাজার এলাকার বাসিন্দা হামিদুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি। এভাবে লোডশেডিং মেনে নেওয়া যায় না।
গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ এলাকার শপিং ব্যাগ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এম আর বাদশা বলেন বিদ্যুতের অভাবে ব্যাগ উৎপাদনের কাজও করতে পারছি না। খুবই খারাপ সময় পার করছি? সরকারের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক এইচএসসি পরিক্ষার্থী বলেন, অসহ্য গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে? এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় দৈনিক ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এদিকে জামালপুর জেলায় পল্লীবিদ্যুৎ অবস্থা দেখে ইতোমধ্যেই পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি জনরোষের আশঙ্কা করছে। জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে অফিস ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫৫% থেকে ৬০% বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে।
এ বিশাল ঘাটতির কারণে গ্রাহকদের দিনে ও রাতে গড়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের আওতায় থাকতে হচ্ছে। তীব্র গরম এবং মাত্রাতিরিক্ত এ লোডশেডিংয়ের ফলে সাধারণ জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও জনরোষ তৈরি হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে গ্রাহকরা তাদের চরম ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমিতির কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা এবং জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। চিঠিতে সমিতির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।
একই সাথেে চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে জামালপুর জেলা প্রশাসক, র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাহিদার মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যার কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা হচ্ছে তাই নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও জামালপুর র্যাব-১৪কে বিষয়টি জানিয়ে রাখলাম। আশা করি, দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।’