সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত সাতক্ষীরার সংবাদপত্র জগতের পথিকৃৎ ও নাগরিক নেতা জিএম নূর ইসলামের স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সদ্য প্রয়াত দৈনিক দৃষ্টিপাতের সম্পাদক ও প্রকাশক জিএম নূর ইসলামকে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতায় তিনি যেমন নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন, তেমনি নাগরিক অধিকার ও জেলার উন্নয়ন আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সংবাদপত্রের পাতায় মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজপথেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। জনস্বার্থ ও মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এসব ভূমিকা পালন করেছেন।
.png)
স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াত এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজীব।
বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার সংবাদপত্র জগতে জিএম নূর ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি সাংবাদিকতাকে শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; সংবাদপত্রকে মানুষের সমস্যা, অধিকার, বঞ্চনা ও সম্ভাবনার কথা বলার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছেন।
তারা বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাতক্ষীরার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জিএম নূর ইসলাম। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও সংকটে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, নাগরিক অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। সাতক্ষীরার মানুষের ন্যায্য দাবি ও মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি যেমন কথা বলেছেন, তেমনি সংবাদপত্রের মাধ্যমেও এসব বিষয় জনপরিসরে তুলে ধরেছেন।
পেশাগত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের চিন্তা, মেধা ও সাহস দিয়ে সাংবাদিকতায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন জিএম নূর ইসলাম। একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সরলতা ও নিরহংকার আচরণের কারণে তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন।
স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম বাবলা, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাবু, সনাক-সাতক্ষীরার সভাপতি তৈয়ব হাসান বাবু, সিনিয়র আইনজীবী মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবুল কালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুজন ও মোজাফ্ফর রহমান, দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, বার্তা সম্পাদক জিএম আদম সফিউল্লাহ, বৈশাখী টিভির শামীম পারভেজ, একাত্তর টিভির বরুণ ব্যানার্জী, পত্রদূতের বার্তা সম্পাদক এসএম শহীদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী লুইস রানা গাইন, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ডা. মহিদার রহমান, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মোমিন, স্বপ্নসিঁড়ির সভাপতি নাজমুল হক, চ্যানেল নাইনের কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী, সূবর্ণভূমির আসাদুজ্জামান সরদার, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, স্টার নিউজের গাজী ফরহাদ, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা ও আলোর পরশের মফস্বল বার্তা সম্পাদক গাজী হাবিবসহ অনেকে।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবু, উন্নয়নকর্মী জিএম মনিরুজ্জামান, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন আলী, নির্বাহী সদস্য (অর্থ) এসএম বিপ্লব হোসেন, নির্বাহী সদস্য (দপ্তর) এসএম জিন্নাহ, রেড ক্রিসেন্টের সাবেক যুব প্রধান মো. ইলিয়াস হোসেন, ভিবিডি সাতক্ষীরার হিউম্যান রিসোর্স অফিসার তানজীল আলম, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি করিমন নেছা শান্তা, সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, আমরা বন্ধুর জালাল উদ্দীন, কমিউনিটি গ্রুপের পরিচালক উম্মে ফোয়ারা রানীসহ সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্য তানজির কচি, হাবিবুর রহমান সোহাগ, রিজাউল করিম, ইব্রাহিম খলিল, মিলন রুদ্র, মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব, আলী মুক্তাদা হৃদয়, এসএম তৌহিদুজ্জামান, কিশোর কুমার, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন, হাবিবুল হাসান, মেহেদী হাসান শিমুল, ইকরামুল কবিরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত জিএম নূর ইসলামের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।