রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কারিগরপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন কচুয়া গ্রামের মিজানুর রহমান কালু (৪২), তাঁর ছেলে মুন্না (১৮) ও শুভ (২৯), মাহমুদুল হাসান (১৪), চম্পা (৩৫), বড়শেরপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৮), কেশববাড়িয়া গ্রামের বনি আমিন (২১), মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং হাঁসবাড়িয়া গ্রামের মাসুদ রানা (৪৫)।
.png)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারিগরপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর একই গ্রামের আফসার আলীর সঙ্গে মসজিদ কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলামের তর্ক-বিতর্ক হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, আফসার আলী বিএনপির সমর্থক এবং নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সমর্থক। ওই বিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান কালুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আফসার আলীর পক্ষ নিয়ে কারিগরপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। পরে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত নয়জন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে মাসুদ রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।