ঘটনাটি উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকার লিপি বেগম নামের এক নিঃসন্তান নারীর কাছে শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়।
শিশুটির ফুফু পারভিন বেগম বলেন, ‘সোহাগ হাওলাদার আমার ছোট ভাই। সে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করত। ঢাকায় থাকা অবস্থায় প্রায় ১০ বছর আগে শরীয়তপুরের আলো আক্তারকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে আলীফ হাওলাদার (১০), আরিফ হাওলাদার (৫) ও রুম্মান (৮ মাস) নামে তিন ছেলে রয়েছে।’
.png)
পারভিন বেগমের অভিযোগ, শিশুটিকে এক লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে লালন-পালনে সমস্যা হলে আমাদের জানানো উচিত ছিল। আমরা দায়িত্ব নিতাম। কিন্তু এভাবে শিশুকে বিক্রি করা ঠিক হয়নি।’ এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
তবে শিশুটির বাবা সোহাগ হাওলাদার টাকা নিয়ে সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে বিক্রি করা হয়নি। লালন-পালনের জন্য এক আত্মীয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।’
শিশুটির মা আলো আক্তারও সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অসুস্থ। তিন সন্তানকে একসঙ্গে লালন-পালন করতে তার সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে শিশুটিকে এক আত্মীয়ের কাছে লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন খান বলেন, ‘শিশু বিক্রির এমন খবর শুনেছি। যদি শিশুটিকে বিক্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে কাজটি ঠিক হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
শিশুটিকে প্রকৃতপক্ষে বিক্রি করা হয়েছে, নাকি লালন-পালনের জন্য অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।