গত ২০ আগস্ট থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের এ অর্থদণ্ড করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলেন বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের দশাল গ্রামের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স মঈন উদ্দিন ট্রেডার্স (২০ হাজার টাকা), কেন্দুয়া উপজেলার বিসিআইসি ডিলার মেসার্স হাবিবুর রহমান (২০ হাজার টাকা), কলমাকান্দা উপজেলার বিসিআইসি ডিলার মেসার্স হাবিবুর রহমান (৫০ হাজার টাকা), একই উপজেলার মেহেদী এন্টারপ্রাইজ (১০ হাজার টাকা), নেত্রকোণা সদর উপজেলার হাটখোলা বাজারের মেসার্স আক্রাম এন্টারপ্রাইজ (১০ হাজার টাকা), একই এলাকার মেসার্স হাফিজুর রহমান (১০ হাজার টাকা), মেসার্স আশরাফুল আলম (১০ হাজার টাকা) এবং সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা-বেতাটি বাজারের মেসার্স দেবদাস রায় (৩০ হাজার টাকা)।
.png)
জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘কোথাও সার নিয়ে সংকট তৈরির চেষ্টা, বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুতের খবর পাওয়া গেলে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলায় কোনো ধরনের সারের সংকট নেই।’
তিনি বলেন, ‘সোমবার সদর উপজেলার হাটখোলা বাজারে তিনজনসহ এ পর্যন্ত মোট আটজনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিলের জন্য উপজেলা কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিতে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আমিরুল ইসলাম বলেন, ক্যাশ মেমো, বিক্রয় রেজিস্টার ও মজুত রেজিস্টার হালনাগাদ না থাকায় কলমাকান্দায় একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাউচার ছাড়া সার বিক্রি, বিনির্দেশবহির্ভূত সার বিক্রি এবং বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যথাক্রমে ৩০ হাজার, ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের ভাউচার নিয়ে সার কেনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষক ভাইদের ভাউচার করে সার কিনতে হবে। এতে কোনো বিক্রেতা প্রতারণা করলে তাঁকে সহজেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণায় বিসিআইসি ডিলার রয়েছেন ১১৭ জন এবং বিএডিসি ডিলার ১৫৮ জন। মোট ২৭৫ জন ডিলারকে সার বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।