নিহত সোনিয়া আক্তার বরিশালের হিজলা থানার চর ভারেয়া গ্রামের বাবুল চৌকিদারের মেয়ে। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর তোফাজ্জল হোসেন তপুর বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় সোনিয়া আক্তারের বসতঘরে ঢুকে জুয়েল সরদার তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
.png)
সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সোনিয়ার সহপাঠী আইরিন তাকে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত গোয়ালন্দ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফরিদপুরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর থেকে সোনিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত জুয়েল সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডলপাড়া এলাকার নুকু সরদারের ছেলে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জুয়েল সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত সোনিয়া আক্তার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।