শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার টংগুয়া বাজার ও পাকেরহাট এলাকায় পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুতের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
.png)
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সার ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্টটি পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে পাকেরহাট এলাকায় ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান চালায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দ। নির্ধারিত সীমার বাইরে সার মজুত করে রাখার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে গুদাম থেকে মোট ৪৫০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অনুমোদিত সীমার বাইরে সার সংরক্ষণ করায় কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার জানান, টংগুয়া বাজার থেকে জব্দ করা ২০৭ বস্তা সার আগামীকাল স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকেরহাট থেকে জব্দ করা সারও প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।