ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাটিরাঙ্গায় রাতের আঁধারে মাছের লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি)
প্রকাশিত: ১৯:১৪, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাটিরাঙ্গায় রাতের আঁধারে মাছের লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় রাতের আঁধারে এক দরিদ্র কৃষকের মাছের লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এতে লেকের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষক।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক লাল মিয়া।

Advertisement

লাল মিয়া জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৬০ শতক জমিতে দুই খণ্ডে লেক তৈরি করে প্রায় দুই বছর আগে তিনি তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির কার্পজাতীয় মাছের পোনা ছাড়েন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত মাছের পরিচর্যা করে আসছিলেন তিনি। বর্তমানে লেকের মাছের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়েছে। মোট মজুদ প্রায় আড়াই টন, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।

লাল মিয়ার অভিযোগ, তার লেকের সীমানাসংলগ্ন জমি ও সেগুনবাগানের মালিক জয়নাল মিয়া। লেকের বাঁধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রকাশ্যে বাঁধ কেটে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। এর জেরেই মঙ্গলবার গভীর রাতে জয়নাল মিয়া ও তার ছেলে আল আমিন বাঁধ কেটে দেন বলে অভিযোগ করেন লাল মিয়া।

লাল মিয়া বলেন, “বাঁধ কেটে দেওয়ায় লেকের পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে সব মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাকে।” ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়নাল মিয়া। তিনি বলেন, লেকের বাঁধের কারণে তার বাগানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং টিলা ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি। তবে বাঁধ কাটার সঙ্গে নিজে বা তার ছেলে জড়িত নন দাবি করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং এ পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ//এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!