শাপলা বিক্রি করে চলছে অনেকের সংসার
জাতীয় ফুল শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, এটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি সবজিও। কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করেও খাওয়া যায় শাপলা। স্বাদ ও তুলনামূলক কম দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এর চাহিদাও রয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন বেশ জমে উঠেছে শাপলার বেচাকেনা। স্থানীয় অনেক মানুষ খাল-বিল, জলাশয় ও নিচু জমি থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো শাপলা সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করছেন। এতে সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে তাদের।
.png)
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল, জলাশয় ও কৃষিজমিতে ফুটে আছে শাপলা। পানির ওপর ফুটে থাকা শাপলার সৌন্দর্য পথচারীদেরও আকৃষ্ট করছে। একই সঙ্গে নানা বয়সী খেটে খাওয়া মানুষ ভোর থেকে শাপলা সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করছেন।
পৌর শহরের সড়ক বাজারের শাপলা বিক্রেতা মো. ফরহাদ মিয়া বলেন, তার নিজস্ব জায়গা-জমি নেই। যে কাজ পান, সেটিই করেন। কয়েক দিন ধরে খাল-বিল, জলাশয় ও নিচু কৃষিজমি থেকে শাপলা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছেন। প্রতি আঁটি শাপলা ৩০ টাকা করে বিক্রি করে প্রতিদিন ৩০০ টাকার বেশি আয় হয় বলে জানান তিনি। এ আয় দিয়েই তার সংসার চলে।
মো. রতন মিয়া জানান, শারীরিক সমস্যার কারণে ভারী কাজ করতে পারেন না। তাই গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। ভোরে শাপলা সংগ্রহের জন্য বের হতে হয়। তার মতো আরও অনেকে শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলেও জানান তিনি।
ক্রেতা মো. আবুল হোসেন বলেন, পরিবারের সবাই শাপলা পছন্দ করেন। বাজারে শাপলা দেখে ৬০ টাকা দিয়ে দুই আঁটি কিনেছেন তিনি। একসময় খাল-বিলে প্রচুর শাপলা দেখা গেলেও এখন আগের মতো চোখে পড়ে না বলে জানান তিনি।
গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন, শাপলার তরকারি বেশ সুস্বাদু। তবে সবসময় বাজারে পাওয়া যায় না। তাই বাজারে দেখে ৩০ টাকা দিয়ে এক আঁটি শাপলা কিনেছেন। তার কাছে দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাপলা পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, দেশে সাধারণত সাদা, বেগুনি ও লাল—এই তিন ধরনের শাপলা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদা শাপলা সবজি হিসেবে এবং লাল শাপলা বেশি ব্যবহৃত হয় ঔষধি কাজে। পুষ্টিমানের দিক থেকেও শাপলা সমৃদ্ধ একটি সবজি। অনেক মানুষ বাজারে শাপলা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
তিনি আরও বলেন, একসময় পুকুর, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে প্রচুর শাপলা দেখা যেত। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদি জমি ভরাট এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কারণে দিন দিন শাপলার বংশবিস্তার কমে যাচ্ছে।