ঢাকা,  বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

সরকারি সেবায় একক ডিজিটাল আইডি আসছে

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি সেবায় একক ডিজিটাল আইডি আসছে
সংগৃহীত ছবি

সরকারি বিভিন্ন সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করতে দেশে একটি একক ডিজিটাল আইডি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তুলে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

Advertisement

বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ডিপিআইয়ের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে প্যানেলে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অংশ নেয়।

বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে রেহান আসাদ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে চায়। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা থেকে শিক্ষা নিয়ে ডিজিটাল আইডি ও বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই অবকাঠামো তৈরিতে সময় লাগবে, এর কোনো শর্টকাট নেই। তবে এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে এস্তোনিয়ার ‘এক্স-রোড’ মডেল নিয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান রেহান আসাদ। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এ মডেলকে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সীমান্তপারের ডিজিটাল সেবা ও পরিচয় ব্যবস্থাকে কীভাবে কার্যকরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডিপিআইয়ের সঙ্গে এআইয়ের সম্পর্ক এবং এসব অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে এআইয়ের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্তপারের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। রুয়ান্ডাও সরকারি সেবা গ্রহণ এবং পূর্ব আফ্রিকায় সীমান্তপারের পরিচয় যাচাইয়ে ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পারস্পরিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল আইডেন্টিটি ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। এসব ওয়ালেটের মাধ্যমে নাগরিকরা নিরাপদে নিজেদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি দেশের বাইরেও ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে পারবেন।

রেহান আসাদ বলেন, রুয়ান্ডার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। আঞ্চলিক ইন্টারঅপারেবিলিটির মাধ্যমে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশেও নিজের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিপিআই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘের বৃহত্তর ডিপিআই সুরক্ষা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বড় পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুশাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

রেহান আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবা প্রদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয় নয়; ভবিষ্যতে সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি।

বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!