ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ফ্রি চক্ষু সেবা পেয়ে হাসি ফুটেছে অসহায় মানুষের মুখে

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৫ অক্টোবর ২০২৬
ফ্রি চক্ষু সেবা পেয়ে হাসি ফুটেছে অসহায় মানুষের মুখে
আখাউড়ার দেবগ্রাম মাজহারুল হক দারুল উলুম মাদরাসায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করছেন চিকিৎসক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে না পারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন বয়সী ২০৯ জন নারী-পুরুষ চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। ক্যাম্পে ৩৫ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে অস্ত্রোপচারের জন্য নেওয়া হয়েছে।

সোমবার আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম মাজহারুল হক দারুল উলুম মাদরাসায় এ চক্ষু সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদপুর, ঢাকার উদ্যোগে কাতার চ্যারিটির অর্থায়নে এবং দৃষ্টি আই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় ক্যাম্পটি আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি নির্ণয়, চিকিৎসকের পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেন। বয়স্ক মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চোখে ঝাপসা দেখছেন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও খরচের কথা চিন্তা করে এতদিন যেতে পারেননি। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

মো. মোবারক মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর চোখে ব্যথা এবং ছোট অক্ষর দেখতে সমস্যা হচ্ছে। বিনামূল্যে চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

চক্ষু চিকিৎসক ডা. কে এম সেলিম মাহমুদ বলেন, চোখের কোনো সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা এবং দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্কদের ছানি, গ্লুকোমাসহ বিভিন্ন চোখের রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

আয়োজকেরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চোখের বিভিন্ন রোগ শুরুতে শনাক্ত করা গেলে সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা কমানো সম্ভব। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের পাশাপাশি চোখের যত্ন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও ক্যাম্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম, মুফতি আসয়াদুজ্জামান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোবাশ্বের আহসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোবাশ্বের আহসান বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্যাম্পে ২০৯ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৫ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে। ১৬ জনকে অস্ত্রোপচারের জন্য নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯ জন প্রস্তুত না থাকায় আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) দেবগ্রাম মাদরাসা মাঠ থেকে কাতার চ্যারিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!