কেন্দুয়ায় দুই বছর ধরে মিটার সংকট, গড় বিলে ভোগান্তিতে ৮ হাজার গ্রাহক
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় প্রায় দুই বছর ধরে চলছে পল্লীবিদ্যুতের মিটার সংকট। বর্তমানে উপজেলার আট হাজারের বেশি বিদ্যুৎ মিটার নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সময়মতো নষ্ট মিটার পরিবর্তন না হওয়ায় এসব গ্রাহকের অনেকেই গড় বিলের আওতায় রয়েছেন। এতে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কেন্দুয়া জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, আবাসিক, সেচ ও শিল্প খাতে উপজেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। প্রায় দুই বছর আগে মিটারের সংকট শুরু হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নষ্ট মিটার সময়মতো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন নষ্ট মিটারের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর নষ্ট মিটারের সংখ্যা ছিল ছয় হাজারের কিছু বেশি। বর্তমানে তা আট হাজার ছাড়িয়েছে।
উপজেলার সাউদপাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, তিনি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি বিল আসছে। সমস্যার সমাধানের জন্য মাসের পর মাস স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাচ্ছেন না তিনি।
নয়ন মিয়ার মতো একই সমস্যায় পড়েছেন উপজেলার আরও অনেক গ্রাহক। তাদের অভিযোগ, মিটার নষ্ট হওয়ার পর পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যাতায়াতের ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের ভাষ্য, নষ্ট মিটার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে গড় ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হচ্ছে। কোনো কোনো মাসে আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়তি বিলের চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট মিটার পরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, মিটার নষ্ট হওয়ার পর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগের তথ্যের ভিত্তিতে গড় বিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেই হিসাবেই মাসিক বিল তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন মিটার পরিবর্তন না হওয়ায় এই ‘গড় বিল’ ব্যবস্থাই অনেকের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যুৎ অফিসে এসে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকেরা। অতিরিক্ত বিল নিয়ে কোনো কোনো গ্রাহকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথা-কাটাকাটি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন বিদ্যুৎ গ্রাহক তাকে ফোন করে মিটার ও অতিরিক্ত বিলের সমস্যার কথা জানান। কেউ মিটারের সমস্যার কথা বলেন, আবার কেউ অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত মিটার সংকট ও গ্রাহকদের বিল-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া জোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী ফরিদ মিয়া বলেন, মিটার পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। মিটার সরবরাহ পাওয়ার পর জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় সেচ ও শিল্প গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে মিটার পরিবর্তন করা হচ্ছে। নষ্ট মিটারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।