আখাউড়ায় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: বেড়েছে মন্ডপ
দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পূজন্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্ততি। প্রতিমা তৈরি, রং-তুলির কাজ, মন্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন।
এই সার্বজনীন উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে এখন চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে তৈরি দেবী দুর্গা, ল²ী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে। মাটির প্রলপ কাজ শেষে এখন প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে রং-তুলির আঁচড়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার পৌর শহরসহ উপজেলায় ২৯ পূজামন্ডপে পুজা হবে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী ও ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে পৌর শহরের রাধানগর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিমায় রং করার পাশাপাশি দেব-দেবীর পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজও চলছে।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, এ বছর প্রতিমা তৈরীর ভালো চাহিদা রয়েছে। এক একটি প্রতিমা নিচে ৩০ হাজার থেকে উপরে ৪০ হাজার টাকারও বেশি মজুরি নিচ্ছেন। প্রতিমা তৈরির জন্য বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি, রংসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন হয়। এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতিমা তৈরিতে খরচও বেড়েছে। তবে বংশপরম্পরার এই পেশার প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রতিবছর প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন।
প্রতিমাশিল্পী সুনিল পাল বলেন, রথের পর থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করা হয়। প্রতিমা গড়তে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। কাঠ, বাঁশ, খড়, এঁটেল ও বেলে মাটি দিয়ে মূলত প্রতিমা বানানো হয়। তিনি আরও বলেন গত প্রায় ৩০ বছর ধরে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এবছর ৩টি প্রতিমা তৈরীর কাজ পেয়েছি। মাটির কাজ শেষে এখন চলছে রং করার কাজ। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
আশীষ সাহা জানায়, পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে ইতিমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ তুলির কাজ। এরপরই প্রতিমার পোশাক আর গহনার কাজ শুরু হবে। আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে দুর্গাপুজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সেই সাথে আয়োজকরাও তাদের পুজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। ইতিমধ্যে পুজা উদযাপন কমিটির লোকজন বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে।
এদিকে আয়োজকদের দাবি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে শান্তিপূর্ণ ভাবে এবারের দুর্গাপুজা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অবশ্য প্রশাসন বলছেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।
আখাউড়া পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ পাল বাবু বলেন প্রতিমা তৈরীর কাজ পুরোদমে চলছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, দুর্গাপুজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব । পূজামন্ডপ গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।