ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশু লিয়ামণি বাঁচাতে চাই

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশু লিয়ামণি বাঁচাতে চাই
আখাউড়ায় কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশু লিয়ামণি বাঁচাতে চাই।ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আঠ বছর বয়সি শিশু লিয়ামণি। যে বয়সে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে দিন কাটার কথা তখন তার দিন কাটছে বাড়ির বিছানায় আর হাসপাতালে। সে গত চার বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে  লড়াই করছে। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে এরই মধ্যে খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এখন অর্থের অভাবে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে তার চিকিৎসা।

লিয়ামণি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামের মো: উজ্জ্বল মিয়ার মেয়ে। তার দুই মেয়ের মধ্যে সে বড়। বাবা বাঁশ-বেতের কাজ করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের এই পরিবারটির কাছে মেয়ের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় এখন যেন পাহাড়সম বোঝা।

শিশুর বাবা উজ্জল মিয়া বলেন, জন্মের পর সে শারীরিকভাবে ভালো ছিল। সবার সাথে খেলাধুলা করতো। সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতো। আজ থেকে চার বছর আগে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে স্থানীয় ডাক্তার দেখানো হয়। কোন উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানায় তার কিডনির সমস্যা হয়েছে। এরপর শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শিরিনের কাছে চিকিৎসা শুরু হয়। বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ শুভ্র রায়ের তত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, লিয়ামণিকে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে।চিকিৎসক শুভ্র রায় জানিয়েছেন, প্রায় ১৪ বছর পর্যন্ত তাকে চিকিৎসা দিতে হতে পারে। প্রতি মাসে তিনটি করে ইনজেকশন দিতে হবে। প্রতিটি ইনজেকশনের দাম ৮ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ শুধু ইনজেকশনের পেছনেই মাসে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ টাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন আমি বাঁশ-বেতের কাজ করি। তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছি।

মেয়ের চিকিৎসার জন্য গত চার বছরে আমার যা সামর্থ্য ছিল এবং স্বজনদের সহযোগিতায় প্রায় ১০ লাখ টাকার উপর খরচ করেছি। এখন সেই সামর্থ্যও আমার শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে পারলে দ্রুত  সুস্থ হয়ে উঠবে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমার একার পক্ষে বর্তমানে অর্থের সংকুলান সম্ভব নয়। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য আপনার আমার সহানুভূতিই পারে একটি জীবন বাঁচাতে। এজন্য সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি দোয়া প্রার্থনা করছি।

লিয়ামণির মা রেহেনা বেগম মেয়ের অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘মেয়েটার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে, সেটা ভাবতেই পারি না। এতদিন অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর পারছি না।
তিনি বলেন, চিকিৎসক দ্রুত  তিনটি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু ইনজেকশন কেনার মতো টাকাও এখন হাতে নেই। সহায়তার আশায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন সারা পাচ্ছি না।

লিয়ামণির চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা করা যেতে পারে।
বিকাশ: ০১৭৬৫৫৯৪৩১৭

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/একেকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!