দেশি জাতের ধান আবিষ্কারক সেন্টু হাজং এর কৃষি খামার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজং এর দেশি জাতের ধান আবিষ্কার সম্পর্কিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত প্রথম সারির অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেইলি বাংলাদেশে ‘জরাজীর্ণ ঘরে ২১ বছরের গবেষণা, ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন সেন্টু হাজংয়ের’ এই শিরোনামে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমীনের নজরে আসে।
তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা বারোটার দিকে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমীন সেন্টুর উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহ ও তার কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাত করে উদ্ভাবনী উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও কৃষিক্ষেত্রে অবদানের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তার বাড়িতে ছুটে গিয়ে উদ্ভাবিত দেশি জাতের ধানের ট্রায়াল প্লট পরিদর্শন করেন।
এ সময় নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক, শেরপুরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. মওদুদ আহমেদ, নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, সেন্টু কুমার হাজং এর পথচলা প্রমাণ করে, সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ কোনো মানুষের সম্ভাবনার চূড়ান্ত সীমা নয়। বরং মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও নিরন্তর প্রচেষ্টা মানুষকে অসাধারণ সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে পারে। সমাজের এমন নীরব কর্মবীর ও তৃণমূলের উদ্ভাবকেরাই আমাদের প্রকৃত সম্পদ।
তিনি বলেন, শেরপুর তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করে সেগুলো বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং কৃষির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে জেলা প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেন্টু চন্দ্র হাজং এর মতো উদ্ভাবকদের হাত ধরে সমৃদ্ধ হোক শেরপুরের কৃষি, বিকশিত হোক দেশের কৃষির অপার সম্ভাবনা।
প্রসঙ্গত, কৃষক পরবিারের সন্তান সেন্টু চন্দ্র হাজং এর কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ, নিরলস সাধনা ও নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন এসএসসি পর্যন্ত হলেও একটি এনজিওর মাধ্যমে সামান্য প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে ব্রিডিং বিষয়ে মাত্র ১০ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি নিজস্ব মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আমন ধানের ২২ টি জাতসহ মোট ২৫ টি দেশি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে তার এই নিরলস প্রচেষ্টা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তার উদ্ভাবিত দেশি জাতগুলোর বৈশিষ্ট্যে রয়েছে ভিন্ন বৈচিত্র- কোনোটির দানা চিকন, কোনোটির মোটা, কোনোটি সোনালি রঙের, কোনোটি লালচে-কালো বর্ণের। এসব জাতের মধ্যে ফলন, দানার আকৃতি, রং ও গাছের বৈশিষ্ট্যেও ভিন্নতা রয়েছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব উদ্ভাবন দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজংয়ের উদ্ভাবিত ২৫ টি দেশি জাতের ট্রায়াল প্লট ও কৃষি খামার পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমীন সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে তাকে সরকারিভাবে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আশ্বাস দেন তিনি।