ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

রফতানি হচ্ছে পোশাক তৈরির ২৮ কাঁচামাল

অর্থনীতি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:২১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
রফতানি হচ্ছে পোশাক তৈরির ২৮ কাঁচামাল
পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা

একটি পোশাক তৈরিতে গড়ে অন্তত ৩০ ধরনের কাঁচামালের ব্যবহার হয়ে থাকে। যদিও পণ্যভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে।

দেশে শক্তিশালী পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প গড়ে না ওঠায় এসব কাঁচামালের প্রায় সবই একসময় আমদানিনির্ভর ছিল। এতে রফতানি আদেশ পাওয়ার পর কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়ায় একটা লম্বা সময় লেগে যেত।

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারকরা জানান, পোশাক তৈরি এবং রফতানির জন্য প্রস্তুত করতে বোতাম হ্যাঙ্গার থেকে সিকিউরিটি ট্যাগসহ অন্তত ২৮ ধরনের কাঁচামাল প্রয়োজন হয়। যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন কাঁচামাল। এসব কাঁচামাল এখন দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। এতে লিড টাইমের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় হচ্ছে।

Advertisement

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে পরিমাণের দিক থেকে চীন ও ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ। এই বিপুল পরিমাণ পোশাক উৎপাদনে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের উল্লেখযোগ্য অংশের জোগান আসে স্থানীয়ভাবে। গত অর্থবছর প্রায় ৭০০ কোটি ডলার রফতানি আয় আসে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকসেসরিজ রফতানি থেকে। দেশীয় মুদ্রায় এ পরিমাণ প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশই প্রচ্ছন্ন রফতানি অর্থাৎ রফতানিমুখী দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে রফতানি করা হয়। অর্থাৎ বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে গত অর্থবছর এই ৭০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হয় অ্যাকসেসরিজ শিল্পের মাধ্যমে। প্রচ্ছন্ন রফতানি ছাড়াও সাশ্রয়ী এবং মানসম্পন্ন হওয়ায় গত বছর ১০০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০৩০ সালে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এ খাতের রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর। এতে অন্তত ১৫ কোটি ডলারের অ্যাকসেসরিজের প্রয়োজন হবে। অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রচ্ছন্ন রফতানি বাড়ানোর এ সুযোগের বাইরেও সরাসরি রফতানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

জার্মানিভিত্তিক বৈশ্বিক ডেটা এবং ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, প্যাকেজিংয়ের বিশ্ববাজার ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ বাজার।

১৬০ দেশের বাজার চাহিদার ভিত্তিতে সংস্থাটি বলছে, ২০৩২ সাল নাগাদ প্যাকেজিংয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের আকার দাঁড়াবে ১ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এ বাজারের মাত্র ১ শতাংশ হিস্যা পেলে বাংলাদেশের সরাসরি রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এতে প্যাকেজিং শিল্প দেশের কর্মসংস্থানেও বড় অবদান রাখতে পারে।

এ সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং শিল্প কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, তার সংগঠনের ২ হাজার ২০০ উদ্যোক্তা শতভাগ প্রস্তুত। তাদের অনেকেই বিশ্বমানের কারখানা গড়ে তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লিড সনদের কারখানা আছে ৮টি।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে সরাসরি রফতানিতে তারা এখনো অনেক পিছিয়ে আছেন। এর কারণ প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনাম সরকার তাদের এ শিল্পকে নানান নীতি সহায়তা দিয়ে শক্তিশালী করে আসছে। অথচ দেশে তারা কোনো ধরনের নীতি সহায়তা পান না। রফতানি খাতের প্রায় সব পণ্যই নগদ সহায়তাসহ অন্যান্য নীতি সহায়তা ভোগ করে থাকে। অথচ আমদানি বিকল্প পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে অ্যাকসেসরিজ এবং প্যাকেজিংয়ের জন্য নীতি সহায়তা নেই। নীতি সহায়তা পাওয়া গেলে তৈরি পোশাকের মতো অ্যাকসেসরিজের সরাসরি রফতানি অনেক বাড়ানো সম্ভব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!