১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি, কাল চুক্তি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তি হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ৮ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিরোধিতা করে বন্দর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের নেতারা।
সরকারি আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এর আগে ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের ১৫ বছরের পরিচালনা চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। সরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের প্রকল্প তথ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দুবাই সরকারের মনোনীত পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এটি মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালনা করেছে। টার্মিনালটিতে পাঁচটি জেটি এবং বন্দরের ১৮টি তীরভিত্তিক কনটেইনার ওঠানামার ক্রেনের মধ্যে ১৪টি রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি এটি পরিচালনা করছে।
চুক্তির প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএফসি লেনদেন পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি যাচাই, চুক্তির কাঠামো তৈরি এবং আলোচনায় সহায়তা করছে।
তবে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে বন্দর শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেছেন, চুক্তি সই হলে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি কুতুবদিয়া বহির্নোঙর পর্যন্ত জাহাজ চলাচলও বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সংগঠনটি এনসিটির পাশাপাশি চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল ও সাধারণ পণ্য জেটের বিদেশি পরিচালনারও বিরোধিতা করছে।
শ্রমিক নেতারা সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর পরিচালনার আগে শ্রমিক ও স্থানীয় অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করা প্রয়োজন। ৫ অক্টোবরের কর্মসূচির পর আজ ৭ অক্টোবর মশাল মিছিল এবং ১৩ অক্টোবর আরও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি পরিচালকের অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের উন্নয়ন ও পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায়ও সৌদি প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়েছে।