ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য যাচ্ছে কম, আসছে বেশি

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য যাচ্ছে কম, আসছে বেশি
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি বেড়েছে ১১৩ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক আমদানি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য। এপ্রিল-জুন সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে আমদানি বেড়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।

নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, জ্বালানি ও কৃষিপণ্য আমদানি এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ কেনার কারণে দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখনো নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৫৩৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আগস্টে একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানি ও তুলা আমদানিতে বড় উল্লম্ফন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বিটুমিন, খনিজ জ্বালানি ও তেলজাতীয় পণ্য। এ খাতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এ ব্যয় ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

এ ছাড়া এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য এবং ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য আমদানি হয়েছে।

এ সময় ২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পরিমাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক সামগ্রীও আমদানি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি পণ্যের মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

বাণিজ্য চুক্তির পর বাড়ছে আমদানি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির পর দেশটি থেকে আমদানি বাড়ার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষিপণ্য, তুলা ও অন্যান্য পণ্য কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াটাই স্বাভাবিক। জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যেই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোও জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়ে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭২ কোটি ডলার।

উড়োজাহাজ কেনায় বাড়তে পারে আমদানি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে উড়োজাহাজ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।

এর মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। পরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে উড়োজাহাজ আমদানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য লেনদেনে বড় অঙ্ক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবার আমদানিও বাড়তে পারে।

পোশাক রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন দেশটির বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তেমন ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে না।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক আমদানির মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং পরিমাণ কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজারে চাহিদা কমার পাশাপাশি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ১১ শতাংশের বেশি বাড়া ইতিবাচক সংকেত।

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার। এতে এ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর অন্যতম কারণ জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি। জুলাই-আগস্ট সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি ডলার।

তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চীন-ভারতের বিকল্প নয়, বাড়ছে বৈচিত্র্য

বাংলাদেশের আমদানি বাজারে এখনো চীন ও ভারতের প্রভাব বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে প্রায় ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য এবং ভারত থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে ২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়লেও অল্প সময়ের মধ্যে চীন ও ভারতকে ছাড়িয়ে দেশটি বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস হয়ে উঠবে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।

মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, সাধারণ শিল্পপণ্য ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী। তবে এলএনজি, তুলা, কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বাড়তে পারে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে পরিবর্তন এলেও তা চীন বা ভারতের জায়গা পুরোপুরি দখলের চেয়ে আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার দিকেই বেশি এগোতে পারে। তবে আমদানি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!