ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক অতিথি পাখি

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক অতিথি পাখি
শীতের এ মৌসুমে ক্যাম্পাসে সাত হাজারের বেশি অতিথি পাখি এসেছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এবারের মৌসুমে অতিথি পাখির সংখ্যা বেড়েছে। শীতের এ মৌসুমে ক্যাম্পাসে সাত হাজারের বেশি অতিথি পাখি এসেছে। পাখির এই সংখ্যা বিগত দুই দশকে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।

পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে এবার পাখির প্রতি দর্শনার্থীর উৎপাত ছিল না। এ কারণেই অতিথি পাখির সংখ্যা রেকর্ড সংখ্যক বেড়েছে।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি পাখিশুমারি করা হয়। এতে একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে অতিথি পাখি গণনা করা হয়। শুমারিতে ১২ প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে। এছাড়া গণনা করে সাত হাজারের বেশি পাখি পাওয়া গেছে। অন্য বছরগুলোতে ৫-৬ প্রজাতির পাখি পাওয়া যেত। কিন্তু এবার সেটা দ্বিগুণেরও বেশি। আর পাখি সাধারণত পাঁচ হাজারের বেশি আসতো না। অর্থাৎ এবারের মতো আমরা একসঙ্গে এতো পাখি আগে কখনো দেখিনি। পাখিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চার লেকের বাইরেও কিছু লেকে অবস্থান করেছে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করে। তখন কী পরিমাণ পাখি আসতো তার সুস্পষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে ২০০০ সালের পর থেকে করা পরিসংখ্যানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মৌসুমে কখনই পাঁচ হাজারের বেশি পাখি পাওয়া যায়নি। সে হিসেবে পাখির এই সংখ্যা বিগত দুই দশকে সর্বোচ্চ।

পাখিশুমারির তথ্যমতে, নাকতা হাঁস, খুনতে হাঁস, জিরিয়া হাঁস, ভুতি হাঁস, লেঞ্জা হাঁস, আফ্রিকান কম্ব ডাক, ছোট সরালি, বড় সরালি, পাতারি হাঁস, গ্রেটার স্টর্ক, ফুলুরি হাঁস এবং ইউরেশিয় সিঁথি হাঁস প্রজাতির পাখি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে এসেছে।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলেন, কিছু নতুন প্রজাতির পাখি এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে এসেছে। দেশের অন্য জলাশয়ে আসলেও দর্শনার্থীদের উৎপাতের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে এই পাখিরা আসতো না। উৎপাতের কারণে এসেও অনেকসময় ফিরে যেত। তবে এবার এমনটি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, অতিথি পাখির আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে অন্যান্য বারের মতো এবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। কেউ যেন লেকে বর্জ্য না ফেলতে ও পাখিদের বিরক্ত করতে না পারে সেজন্য লেকের চারপাশে বেড়া দেয়া হয়েছে। এছাড়া লেক সংলগ্ন স্থানে মানুষকে সচেতন করতে সতর্কতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!