ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শখের বাগানে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান রাবি শিক্ষার্থী মাসুদ

আশিক ইসলাম, রাবি
প্রকাশিত: ১২:৪৮, ১৯ এপ্রিল ২০২১
শখের বাগানে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান রাবি শিক্ষার্থী মাসুদ
বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা।

প্রথমে ১০-১২টি পথোস আর এগ্লোনিমা গাছের চারা রোপন করেছিলেন। সেগুলোর কান্ড কেটে টবে লাগিয়ে চারা তৈরি করেছেন। সেই চারা বিক্রি করে নতুন প্রজাতির চারা কিনেছেন। সেটার কান্ড কেটে চারা তৈরি করে বিক্রি করেছেন, নতুন চারা কিনেছেন। এভাবেই বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। বর্তমানে তার বাগানে ১৫০ প্রজাতির প্রায় ২ হাজার চারা রয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেন তিনি।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানার কথা। তার বাড়ি মাগুরা জেলায় তবে বর্তমানে পরিবারসহ ঢাকার তেজগাঁও এ থাকেন। সেখানেই বাসার বিল্ডিংয়ের পেছনে ফাঁকা জায়গায় গড়ে তুলেছেন বাগান। শখের বশে শুরু করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছেন সেসব চারা। তার ফেসবুক পেইজ ‘Backyard Garden BD’ এর মাধ্যমে শৌখিন মানুষজন কিনছেন ঘর ও বারান্দা সাজানোর গাছ।

মাসুদ রানা বলেন, করোনা মহামারিতে অবসর সময় কাটানোর জন্য গাছপালা নিয়ে পড়ে থাকতাম। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি আগ্রহ থাকলেও এই সময়ে আগ্রহ আরও প্রবল হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) গাছ সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে বড় বড় বাগানীদের গাছ দেখে লোভ হতো। কিন্তু সেসব গাছের অনেক দাম। ছাত্রজীবনে এত টাকা কোথায় পাবে? তখন ভাবলাম আমার কাছে যে কয়টি গাছ আছে, সেগুলো থেকে চারা তৈরি করে যদি বিক্রি করা যায় তাহলে সে টাকা দিয়ে নতুন জাতের চারা কিনতে পারবো। সেই ভাবনা থেকেই গাছের কান্ড কেটে টবে লাগাই তৈরি করি চারা। আর সে চারা অনলাইনে বিক্রি করে নতুন প্রজাতির চারা কিনি। কখনো টাকা না জমিয়ে সেটা দিয়ে নতুন প্রজাতির চারা কিনে ফেলতাম।

Advertisement

রানা বলেন, প্রথমে শখের বশেই শুরু করেছিলাম। আমার পুঁজি বলতে ছিলো প্রথমে ১০-১২টি পথোস আর এগ্লোনিমা গাছ। এসব গাছ থেকে চারা তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করে নতুন চারা কিনতে থাকলাম। এখনও এভাবেই চারা বিক্রি আর কেনার মধ্যেই আছি। পরবর্তীতে সেসব গাছ দিয়েই ব্যবসায়িক উদ্দেশে আগানো।

মাসুদ বলেন, ২০১৯ থেকে চারা বিক্রি শুরু করি। সেগুলোর পরিমাণ ছিল খুব কম। কারণ আমার পড়াশুনা রাজশাহীতে আর বাসা ঢাকায়। ছুটিতে বাসায় এলে দুই-একটা চারা বিক্রি করার সুযোগ পেতাম। তবে ২০২০ সালের জুন মাস থেকে পুরোদমে চারাগাছ বিক্রি করছি।

আমার কাছে বেশির ভাগই ইনডোর আইটেমের গাছ রয়েছে। যেমন- সাকুলেন্ট, র‌্যাফিডোফোরা, ডেভিলস ব্যাকবোন, এলোকেশিয়া, ফিলোডেনড্রন, এরাবিয়ান ওয়াক্স, চাইনিজ এভারগ্রিন, ইংলিশ আইভি, বাটারফ্লাই অক্সালিস, ক্রিপট্যানথাস, পিপক জিঞ্জার, মনস্টেরা, ক্যালাডিয়াম, সিংগোনিয়াম, অ্যান্থুরিয়াম, স্পাইডার প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, এডেনিয়াম, ক্যালাঞ্চু, ফিটোনিয়াসহ প্রায় ১৫০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।

মাসুদ বলেন, ঢাকার অভিজাত শ্রেণির শৌখিন মানুষের গাছপালার প্রতি ঝোঁক বেশি। ঘর ও বারান্দা সাজানোর জন্য শখ করে এসব গাছ কিনেন তারা। আমার বেশিরভাগ কাস্টমারই ঢাকার আশেপাশের এলাকার। তাই সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় সহজে গাছ পৌঁছে দিতে পারি। এখন বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। কারণ অন্যদের চেয়ে আমার গাছের দাম তুলনামূলকভাবে কম। মাসে প্রায় ১৪০-১৫০ জন চারার জন্য অর্ডার করেন। প্রতিমাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকার চারা বিক্রি হয়।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে মাসুদ রানা বলেন, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বৃহৎ পরিসরে চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে সাইড বিজনেস হিসেবে নার্সারি দেয়ার ইচ্ছে রয়েছে। সেখানে আনকমন জাতের ইনডোর গাছগুলোর চারা উৎপাদন করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!