একসময় চারদিক পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকলেও এখন তা প্রায় শূন্য ও নিষ্প্রাণ। একটা সময় ছিল যখন পাখির কিচিরমিচির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙতো, একটা নতুন দিনের সূচনা হত। কিন্তু এখন সেই পরিবেশ হারিয়ে গেছে।
এমন এক প্রেক্ষাপটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) একদল প্রকৃতিপ্রেমিক নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের সংগঠন পাখির নিরাপদ আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিতে পাখিদের জন্য আবাসস্থল তৈরিতে কাজ করছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গাছের ডালে ডালে পাখির বাসোপযোগী মাটির মটকা লাগিয়ে দিচ্ছে তারা। অবলা জীব যারা তাদের কষ্টের কথা বলতে পারে না তাদের জন্য এমন মহৎ দৃষ্টান্ত ইবি ক্যাম্পাসে অনন্য।
.png)
নবীন শিক্ষার্থীদের এ সংগঠনের নাম ‘অভায়ারণ্য’। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ক্যাম্পাসে আসা অতিথি পাখিদের বাসস্থান ও খাদ্য নিশ্চিত করা। ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন নষ্ট প্লাস্টিক বোতল ও পণ্য ব্যবহার করে পাখিদের খাদ্যের পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং সাধ্য অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ করা।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে হলের বড় ভাইদের রুমে রুমে গিয়ে টাকা তুলে এবং দিনভর নিজেরাই মাটির মটকা রং করে। পরে রবিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ক্যাম্পাসের বট চত্বরে গাছে মাটির হাঁড়ি স্থাপনের মধ্যদিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এ কার্যক্রম শুরু করেন।
প্রথমদিনে বটচত্বর, লেকের ধারে, আমতলা, ডায়নাচত্বর ও প্রকৌশল ভবন পার্শ্ববর্তী এলাকাসহ বেশ কয়েক জায়গায় গাছে হাঁড়ি স্থাপন করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানেও হাঁড়ি স্থাপন করা হবে বলে জানান আয়োজকরা। নবীন শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই।
সংগঠনটির সভাপতি গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক ফেরদৌস ইমন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা পাখিদের একটি সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। আমরা যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করতে পারি তাহলে প্রতি বছর আরো বেশি বেশি অতিথি পাখি আসবে। পাখিদের বাহিরেও ক্যাম্পাসের কুকুর এবং বিড়াল এর ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে আমরা কাজ করার পরিকল্পনা করছি।
বিজ্ঞানীদের মতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির অবদান অনস্বীকার্য। পাখির মল ত্যাগের ফলে চারা গজিয়ে তৈরি হয় বনায়ন। বসতি বিস্তার, ফুল থেকে ফল উৎপাদনে পাখির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পাখির বিষ্টা মাটির ভূমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। জমির ফসলকে কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করতে পাখি এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এমন বাস্তবতায় পাখিদের নিরাপদ পরিবেশ ও অভয়ারণ্য তৈরি করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।