এদিকে ক্লাসে এসে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, করোনা আমাদের জীবন থেকে উনিশ মাস কেড়ে নিয়েছে। ক্লাসরুম থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয় খুবই মিস করেছি। অবশেষে আবার ক্লাস রুমে ফিরতে পেরেছি এটাই খুবই আনন্দের। ক্যাম্পাসে আবারো সবকিছু স্বাভাবিক হোক এখন এই প্রত্যাশা করি।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮১তম সিন্ডিকেট সভা শেষে ২৭ অক্টোবর থেকে হল ও ২ নভেম্বর থেকে ক্যাম্পাস খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আরেক শিক্ষার্থী ইয়ামিন ভুঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরতে ফেরে নি:সন্দেহে ভালো লাগছে। দেড় বছরেরও বেশি সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। যার ফলে আমাদের কয়েকটা সেমিস্টার জমা হয়ে গেছে। এখন ডিপার্টমেন্ট যদি আমাদের এই পরীক্ষাগুলো দ্রুত নেয়ার ঘোষণা দেয় তাহলে আমাদের এই আনন্দের সময়টা আরো আনন্দময় হয়ে উঠবে।
.png)
সশরীরে ক্লাস নিতে পেরে খুশি শিক্ষকরাও। আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো দিয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় যদি শিক্ষার্থী না থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার প্রাণের জায়গা। দীর্ঘ ১৯ মাস পর শিক্ষার্থীরা প্রিয় আঙিনায় ফিরছে এটা অত্যান্ত আনন্দের।
ছাত্র পরামর্শক ও নিদের্শনা কার্যালয়ের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, সবার বিষয়ে জানতে প্রতিটি বিভাগের উপদেষ্টা শিক্ষক ও ক্লাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে শিক্ষার্থীদের সমস্যগুলো সমাধান চেষ্টা করব। ১৯ মাস ধরে ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি নিতে ক্লাস অধীর আগ্রহ নিয়ে ছিলাম। আবারো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এতদিন প্রাণহীন ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে গেছি। যারা বিদ্যাপীঠের প্রাণ আজ থেকে তারাও ফিরবে। এ আনন্দ অসাধারণ। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোর অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। আশা রাখবো স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পুনরায় ক্লাসে ফিরবে এবং জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করবে।
ভিসি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর আজ সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। সকালেই বিভাগগুলো পরিদর্শন করেছি গিয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।