শহীদ ‘মুনীর চৌধুরী’ ও ‘শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী’ রচিত নবম ও দশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ভাষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আছে।
ভাষার পার্থক্য কেন হয়?
.png)
দেশ, সময় ও পরিবেশের জন্য প্রধানত ভাষার পার্থক্য ঘটে। একটি দেশে এক ধরনের ভাষার ব্যবহার হয়, সেই কথাগুলোই অন্য দেশের মানুষরা আলাদা ভাষায় বলেন। একটি সময়ে একটি কথার যেমন একটি অর্থ থাকে, অন্য সময়ে সেটির আলাদা অর্থ হয়। এই ভিন্নতা সব দেশেই, সবখানেই আছে। আবার পরিবেশ ভাষার এই পার্থক্যের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নিয়ামক সর্বত্রই। মানুষ তার ভাষা প্রকাশের জন্য যেমন মনের ভাবকে বেছে নেন, তেমনি তারা মনের ভাব প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বস্তু বা উপকরণ ব্যবহার করেন।
আরো পড়ুনঃ আগামীকাল এসএসসির ফল প্রকাশ
যেমন: বাংলাদেশিরা পাথর বলেন, সেটিকে ইংরেজরা বলেন স্টোন। পানি আমরা খাই, ওয়াটার বলেন ইংরেজি ভাষার লোকেরা। বিভিন্ন পরিবেশে ভাষাকে প্রকাশের জন্য মানুষ যেসব বস্তু ও ভাবকে ব্যবহার করেন তাদের ইংরেজি ‘সিম্বল’ বলে।
এই কারণেও মুখের ভাষার বাইরে বিভিন্ন ধরনের উপকরণের ব্যবহার ভাষার ভেতরে দেখতে পাই। সেগুলো দেশভেদে আবার ভিন্ন, ভিন্ন হয়।
আরো পড়ুনঃ যেভাবে ঘরে বসে সহজেই জানতে পারবেন এসএসসির ফল
যেমন আফ্রিকাতে বাওবাব গাছ আছে, আমাদের দেশে নেই। ফলে তারা বাওবাব বললে যে গাছটির কথা মনে ভাসে ও সেখানে দেখা যায়, আমাদের দেশে দেখা যায় না। আমাদের দেশে বটগাছ বললে যে গাছটির কথা মনে পড়ে, সেটি তারা কল্পনাও করতে পারেন না। তবে ভাষার সাধারণ ব্যবহার সবখানে একই একটি বিশেষ বস্তুর ক্ষেত্রে ঘটে। যেমন গাছ বললে আমরা যা বোঝাই, বিদেশের যে কোনোখানে তাই হয়। তবে ভিন্ন ভাষায় এই যা। গাছ বা ট্রি হলো মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান কারিগর। তারা অক্সিজেন দিয়ে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। মাটি থেকে পানি নিয়ে আবার সেই পানি ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের বাসযোগ্য ও চাষাবাদের উপযোগী রাখে ভূমি। সেটি আমাদের সবার জীবন বাঁচায়, খাবার জোগায় চাষাবাদের মাধ্যমে।